কোচবিহারের প্রাচীন ভবন রক্ষায় পুরসভাকে নির্দেশ

279

কোচবিহার: কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর হিসাবে ঘোষণার কাজ আরও একধাপ এগোল। বুধবার বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে হেরিটেজ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুরসভার কী কী করণীয়, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পুরসভার আলোচনা হয়। বৈঠকে জেলাশাসক কৌশিক সাহা, অতিরিক্ত জেলাশাসকরা ছাড়াও কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার হেরিটেজ নিয়ে কোচবিহারে আরও একটি বৈঠক রয়েছে।

কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর হিসেবে ঘোষণার দাবি অনেকদিন ধরেই ছিল। এই পরিস্থিতিতে বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে এসে একটি সরকারি সভায় কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর ঘোষণা করার সুপারিশ করেন। এরপরই কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ ঘোষণা করতে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে বেশ কয়েবার হেরিটেজ বিশেষজ্ঞ দল কোচবিহার শহরের বিভিন্ন হেরিটেজ ভবন পরিদর্শন করে গিয়েছেন। একটি শহরে এত হেরিটেজ ভবন দেখে তাঁরাও বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু শহরের যেখানে-সেখানে হোর্ডিং, বিদ্যুতের তার, ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু দিঘির বেহাল অবস্থা সহ বিভিন্ন কারণে কোচবিহারকে হেরিটেজ ঘোষণায় বাধা এসেছে।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার শহরে বিভিন্ন হেরিটেজ ভবনের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় বা ওই সমস্ত ভবন সংস্কারের নামে যাতে তার আদলে পরিবর্তন না করা হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের নির্দেশ এসেছে। কোচবিহারের হেরিটেজ ভবনগুলির বেশিরভাগ কোচবিহার পুরসভা এলাকায় রয়েছে। সে কারণে পুরসভার চেয়ারম্যানকে নিয়ে জেলা প্রশাসন এদিন একটি বৈঠক করে। কোচবিহার শহরে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে ১৫৫টি হেরিটেজ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি সরকারি ও ৪৫টি বেসরকারি ভবন।

পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, শহরের সমস্ত হেরিটেজ ভবন যাতে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, সেই ভবনগুলির মূল আদল যাতে কেউ বদল করতে না পারে, সেসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসন এবিষয়ে পুরসভাকে উদ্যোগী হতে বলেছে। পাশাপাশি, শহরের সমস্ত দিঘি কী অবস্থায় রয়েছে, সেবিষয়ে তালিকা ও রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠাতে হবে বলে জানানো হয়েছে। জেলাশাসক কৌশিক সাহা বলেন, হেরিটেজ নিয়ে বুধবার কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। হেরিটেজ ভবন রক্ষণাবেক্ষণে সরকারি নিয়ম মেনে পুরসভাকে উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে।