চা সুন্দরী প্রকল্পের জমি দেখলেন প্রশাসনের কর্তারা

456

রাঙ্গালিবাজনা: বাগানের গৃহহীন শ্রমিকদের জন্য চা সুন্দরী প্রকল্পে গৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন চা বাগানে জায়গা দেখলেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মীনা। জেলাশাসক বলেন, ‘রবিবার লঙ্কাপাড়া, ঢেকলাপাড়া ও মুজনাই চা বাগানে জায়গা দেখা হয়েছে।’ লঙ্কাপাড়া চা বাগানটি সাড়ে পাঁচ বছর ও ঢেকলাপাড়া চা বাগানটি ১৮ বছর বন্ধ হয়ে রয়েছে। এদিন জেলাশাসকের সঙ্গে ছিলেন মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং। বিডিও বলেন, ‘ওই প্রকল্পে সরাসরি ঘর পাবেন গৃহহীন চা শ্রমিকরা।’

গত রাজ্য বাজেটে গৃহহীন চা শ্রমিকদের জন্য ঘর তৈরির লক্ষ্যে চা সুন্দরী প্রকল্পের ঘোষণা করে সরকার। উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই ঘোষণার পর চা বাগানের শ্রমিকদের নামের তালিকা তৈরি শুরু করে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন।

- Advertisement -

মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লঙ্কাপাড়া চা বাগানে ১৬৭৯ জন, মুজনাই চা বাগানে ৮২৯ জন, ঢেকলাপাড়া চা বাগানে ৬০০ জন উপভোক্তা চা সুন্দরী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের চা বাগানগুলিতে অনেক শ্রমিকের ঘরই বসবাসের উপযোগী নয়। এছাড়া লাগাতার হাতির হানায় বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে অনেক আবাসনই। বছর পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগান শ্রমিকরা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বন্ধ, অচল চা বাগানের শ্রমিকদের। অনেক শ্রমিকই ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই চা সুন্দরী প্রকল্পের মাধ্যমে ওই শ্রমিকদের দুর্দশা কাটতে চলেছে বলে দাবি তৃণমূলের চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের।

চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সহসভাপতি মান্নালাল জৈন বলেন, ‘চা বাগানের ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ যুগান্তকারী। এতদিন চা শ্রমিকদের নিয়ে শুধু রাজনীতি হয়েছে। ওঁদের কথা কেউ ভাবেনি।’

যদিও মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘এতে নতুনত্ব কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা দিয়ে চা সুন্দরী নামে একটি প্রকল্প চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলির নাম পালটে রাজ্য সরকারের নামে চালিয়ে যাচ্ছেন। চা সুন্দরী প্রকল্পের টাকা আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া টাকা।’