বেহাল নদী বাঁধ পরিদর্শনে প্রশাসনিক কর্তারা

133

চাঁচল: বেহাল নদী বাঁধ পরিদর্শনে যান প্রশাসনিক কর্তারা। বুধবার চাঁচল-১ ব্লকের মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গালিমপুর এলাকায় বেহাল বাঁধ পরিদর্শনে যান মহানন্দা এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকার বদিরুদ্দিন শেখ। সঙ্গে ছিলেন চাঁচলের মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল, চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন প্রমুখ। এদিকে এদিন চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষও বাঁধ পরিদর্শনে যান।

এলাকার বাসিন্দা হারুন-আল-রশিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় ধুঁকছে মাস্টার প্ল্যান বাঁধ। অভিযোগ, ২০১২ সালের দিকে পাথর(বোল্ডার) দিয়ে নদীর ভাঙন রোধে বাঁধের পাড় বাঁধা হয়েছিল। কিন্তু এক দশক কেটে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ সংস্কারের অভাবে বোল্ডার ভাঙতে শুরু করেছে। সরকারি আধিকারিকেরা শুধু পরিদর্শনে যান কাজের কাজ কিছুই হয় না বলে অভিযোগ বাসিন্দদের। এলাকার এক গৃহবধূ বিবি মনোয়ারার দাবি, আমরা চাই খুব শীঘ্রই সংস্কার করা হোক বাঁধ। ঠিক সময়ে অর্থাৎ সুখা মরশুমে বাঁধ সংস্কারের কাজ হলে বাঁচবে বাসিন্দারা। নইলে ফের বাঁধ কেটে বন্যায় ডুববে বাসিন্দারা। বোল্ডারের কাজ শুরু করা হোক। জলের তলায় ভেসে যাবে বহু ফসল। ইতিমধ‍্যেই নদীর ধারেই গালিমপুরে প্রায় ৫০টি পরিবার আতঙ্কিত। ভিনরাজ‍্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে কোনও রকমে পাকা বাড়ি দিয়েছি। আর বাঁধে ধস পড়লে বাড়িটিও গিলে খাবে। এমন আশঙ্কায় কুরে কুরে খাচ্ছে গালিপুরের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দাদের।

- Advertisement -

বৃষ্টিতে মহানন্দা নদীর জল ক্রমশ বাড়ছে। এদিকে জল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী বাঁধে ফাটলও দেখা দিয়েছে।আতঙ্কে ঘুম উড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। যে কোনও সময় পাকা বাড়িগুলো গ্রাস করতে পারে মহানন্দা। চাঁচলের মহানন্দা নদী লাগোয়া গ্রামগুলির বহু মানুষ ফের বন্যা আতঙ্কের প্রহর গুনছেন। গালিমপুর বাঁধ পাড়ের এক বাসিন্দা দীপক কুমার সিংহ বলেন, বৃষ্টি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের অবস্থা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।বাঁধের পাড়ের পাথরের বোল্ডার গুলিও ভাঙতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অল্পবিস্তর শুরু হয়েছে ভাঙন। আর তাতেই ঘুম উড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী হাজার মানুষের।

মহানন্দা এমব্যাংকমেন্টের নির্বাহী বাস্তুকার বদিরুদ্দিন শেখ বাঁধ পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন, ২০১২ সালে এখানে শেষ কাজ হয়েছে হয়েছে। দুই ফেজে মোট আঠারোশো মিটার পাথর(বোল্ডার) দিয়ে বাঁধের কাজ হয়। বাঁধের কিছু নীচের অংশ দুর্বল হয়েছে। তা সার্ভে করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে শীঘ্রই মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁচলের মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল বলেন, ‘বাঁধের কয়েকটা জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধ মেরামতের কাজ সেচ দপ্তরকে বলা হয়েছে।’