বাইরে যেতে নারাজ কৃতীরা জেলায় ভিড়

234

আলিপুরদুয়ার : উচ্চমাধ্যমিকে তাক লাগানো ফল করেও অনেক কৃতী পড়ুয়া এবার আর ভিনরাজ্যের কলেজগুলিতে ভর্তি হতে যেতে চায় না। করোনার জন্য তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্যই এবার জেলার কলেজগুলিতে পড়ুয়াদের ভিড় উপচে পড়তে পারে। পাশাপাশি জেলার কলেজগুলিতে অনার্সের আসন সীমিত থাকায় মেধাবী অনেক পড়ুয়া অনার্স নাও পেতে পারে বলে আশঙ্কা। তাই আলিপুরদুয়ার জেলার কলেজগুলিতে অনার্সের আসন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে অভিভাবকরা। পাশাপাশি জেলার তিন থেকে চারটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালুর দাবিও উঠেছে।

জেলার শিক্ষা মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলায় উচ্চশিক্ষার জন্য তেমন প্রতিষ্ঠান নেই। বিশেষ করে যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চায় তাদের জন্য ভালো কলেজ নেই জেলায়। তাই প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে থেকেই পড়ুয়া ও অভিভাবকরা ভিনরাজ্য বা দক্ষিণবঙ্গের কলেজগুলির সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। অনেকে রেজাল্ট বের হওয়ার আগেই ভিনরাজ্যের কলেজগুলিতে ভর্তিও হয়ে যায়। উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হওয়ার পর মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে অনার্সের জন্য বাইরের জেলা বা অন্যত্র ভর্তি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। গত বছরও উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকেই কলেজে ভর্তি হতে সাইবার ক্যাফেগুলিতে পড়ুয়াদের ভিড় উপচে পড়েছিল। এবার উচ্চমাধ্যমিকে আলিপুরদুয়ার জেলার পড়ুয়ারা মেধাতালিকাতেও স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি জেলায় পাশের হারও বেশি। কিন্তু ভিনরাজ্য বা দক্ষিণবঙ্গের কলেজগুলিতে এবার আর ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না পড়ুয়ারা। কিছু মেধাবী পড়ুয়া ভিনরাজ্যে যেতে চাইলেও তাতে আবার সায় দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। স্বাভাবিকভাবেই এবার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রতিটি কলেজে ভর্তি হতে পড়ুয়াদের ভিড় উপচে পড়বে। উচ্চমাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ নম্বর পাওয়া শ্রেয়সী পাল বলে, ‘আমার ইচ্ছা ছিল ভূগোল নিয়ে দেরাদুনে পড়াশোনা করার। শুনেছি সেখানে এখনও ফর্ম ফিলআপ শুরু হয়নি। তবে সেখানে ফর্ম ফিলআপ শুরু হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করে যাব তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’ আলিপুরদুয়ার শহরের এক অভিভাবক প্রদীপ দত্ত বলেন, ‘করোনার জন্য এমনিতেই সব স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় মেয়ে হর্টিকালচার নিয়ে পড়তে গুজরাট যেতে চায়। এখন কী করব তাই ভেবে পাচ্ছি না।’ আরেক অভিভাবিকা দীপালি রায় বলেন, ‘ভেবেছিলাম ছেলেকে কলকাতার নামী কলেজে ভর্তি করাব। কিন্তু করোনার জন্য ভয়ে আছি। এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আলিপুরদুয়ার কলেজেই তাকে বিএসসি অনার্সে ভর্তি করাব।’

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার হাইস্কুল থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিকে ৯৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছে রাহুল বাছার। তিনি বলে, ‘অঙ্কে অনার্স নিয়ে দক্ষিণবঙ্গের কোনও কলেজে পড়ার ইচ্ছে ছিল। জেলায় একটি কলেজ ছাড়া অন্য কোনও কলেজে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। তাই ভর্তির বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছি।’এদিকে, জেলার পড়ুয়ারা জেলার কলেজগুলিতেই ভর্তি হলে বিশেষ করে অনার্সের আসন নিয়ে টানাটানি পড়বে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার বিবেকানন্দ কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা ওয়েকুপার জেলা সভাপতি গোবিন্দ রাজবংশী বলেন, ‘জেলায় একটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। অন্য কলেজগুলিতে সে সুযোগ নেই। তবে আমরাও বিষয়টি নিয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই যাতে আরও দুএকটি কলেজে অনার্স সহ বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা যায় সে বিষয়ে কথা চলছে।’

ফালাকাটা কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনার জন্য এখন অনেক পড়ুয়া ভিনরাজ্যে পড়তে যেতে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। এর জন্য জেলার কলেজগুলিতে বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা প্রযোজন। আমরাও আমাদের কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করতে রাজ্য সরকার ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। কলেজের পরিকাঠামো বাড়াতেও আমরা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে আবার পদক্ষেপ করব।’

ছবি- আলিপুরদুয়ার কলেজ

তথ্য- ভাস্কর শর্মা, ছবি- আয়ুস্মান চক্রবর্তী