যথেচ্ছ স্যানিটাইজেশনে বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির শঙ্কা

206

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : ভালো করতে গিয়ে আখেরে খারাপ হচ্ছে না তো? দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা ভাইরাসের দাপটে আমাদের জীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। অবস্থা সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা বেশি করে মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এলাকা স্যানিটাইজেশন নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। আর এখানেই একটা প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ভালো করতে গিয়ে আমরা আখেরে নিজেদেরই ক্ষতি ডেকে আনছি না তো? আসলে স্যানিটাইজেশনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। পাশাপাশি, স্যানিটাইজার হিসাবে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে হারে চারিদিকে স্যানিটাইজেশনের হিড়িক চলছে তাতে আদৌ বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে কি না তা নিয়ে সংশিষ্ট মহলের সন্দেহ রয়েছে। গোটা বিষয়টি বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতিও করতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক ডঃ প্রদীপ কর বলছেন, কীভাবে স্যানিটাইজেশন করতে হবে সে বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) একটি প্রোটোকল দিয়ে দিয়েছে। নামী সংস্থাগুলি নিয়ম মেনে স্যানিটাইজার তৈরির পাশাপাশি এলাকা স্যানিটাইজ করছে। তবে ঘরে ঘরে তৈরি স্যানিটাইজার এই প্রোটোকল মেনে তৈরি হচ্ছে কি না তা দেখা দরকার। নইলে লাভের তুলনায় ক্ষতিটাই বড় হয়ে দাঁড়াবে।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটপতঙ্গবিদ তপন হাত বলছেন, প্রকৃতিতে মাত্র ৫-৬ শতাংশ ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ রয়েছে। বাকি কীটপতঙ্গ খুবই ক্ষুদ্র। আদর্শ স্যানিটাইজারে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকে। এই কীটপতঙ্গের ওপর বেশি অ্যালকোহল পড়লে সেগুলি মারা যেতে পারে। পাশাপাশি, প্রকৃতিতে থাকা অসংখ্য ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস আমাদের উপকার করে। বেশি স্যানিটাইজার ব্যবহারের জেরে এগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ অরূপ গুহের সংযোজন, এভাবে কীটপতঙ্গ মারা গেলে পাখিদের খাবারের সমস্যা দেখা দেবে। আর এর জেরে আখেরে গোটা বাস্তুতন্ত্রটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যক্ষ ডঃ তিলক সাহার কথায়, স্যানিটাইজার হিসাবে ব্যবহৃত রাসায়নিকে উপযুক্ত উপাদান না থাকলে জীবাণু হয়তো মরবেই না। সেক্ষেত্রে কাজের কাজটাই হবে না।  গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মণ্ডল বলছেন, যথেচ্ছভাবে রাসায়নিক ব্যবহারের জেরে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সমস্যা মেটাতে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এবিএন শীল কলেজের অধ্যক্ষ তথা এন্ডোক্রিন গ্রন্থি বিশেষজ্ঞ ডঃ  নিলয় রায় অবশ্য বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে স্যানিটাইজেশন করা হলে ক্ষতির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই।

যথেচ্ছ স্যানিটাইজেশনে ক্ষতির বিষয়টি অনেকেই মেনে নিচ্ছেন। এঁদেরই একজন রেড ভলান্টিয়ার্সের কোচবিহারের সদস্য প্রাঞ্জল মিত্র বলছেন, গোটা বিষয়ে আমরা প্রথমে অবগত ছিলাম না। সবকিছু বোঝার পর আমরা এলাকা স্যানিটাইজেশন বন্ধ করেছি। এখন আমরা শুধুমাত্র করোনা সংক্রামিতদের বাড়ি গিয়ে সেই জায়গা স্যানিটাইজ করছি।