চিলাপাতায় গাছ লাগিয়ে বাঁচার রসদ পাচ্ছে বনবস্তি

410

সুভাষ বর্মন, চিলাপাতা : ২০ বছর আগের চিলাপাতা বনাঞ্চল এখন আর নেই। আগের তুলনায় গাছও অনেক কমে গিয়েছে। এতদিন বনাঞ্চলের সীমানায় প্রচুর ফাঁকা জমি পড়েছিল। চিলাপাতায় বন দপ্তর এবার এরকম ফাঁকা প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নানা প্রজাতির প্রায় ৫৬ হাজার গাছের চারা লাগানোর টার্গেট নিয়েছে বন দপ্তর। করোনা পরিস্থিতিতে বন দপ্তরের এই প্রকল্পে প্রতিদিন কাজ পাচ্ছেন বনবস্তির মানুষ। রোজ শতাধিক শ্রমিক গাছের চারা লাগিয়ে মজুরি পাচ্ছেন তাঁরা। এভাবে উপার্জন হওয়ায় খুশি বনবস্তির বাসিন্দারা।

চলতি বছরেই চিলাপাতা বনাঞ্চলের সীমানা এলাকায় প্রচুর ফাঁকা জমিতে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেয় বন দপ্তর। এজন্য কয়েক মাস ধরে জমি প্রস্তুত করা হয়। লকডাউনের জেরে কিছুটা সময় লাগলেও মে মাস থেকে গাছের চারা লাগানো শুরু হয়েছে। চলতি মাসেও গাছের চারা লাগানো চলছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চিলাপাতা বিট এলাকায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ৫০ হাজার গাছের চারা লাগানো হবে। একইভাবে পাশের বানিয়া বিটের ১০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় হাজার চারা গাছ লাগানোর টার্গেট নিয়েছে বন দপ্তর। শাল, খয়ের, চিকরাশি,আমলকি সহ নানা প্রজাতির চারা গাছ লাগানো হচ্ছে। এই জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা গাছ লাগানোর কাজ করছেন চিলাপাতা বনাঞ্চল লাগোয়া কুরমাই, ডাবরি, নেপালি,  দেওডাঙ্গা বস্তির বাসিন্দারা। তাঁরা লকডাউনের জেরে এই অভাবের সময় বন দপ্তরের কাজ পেয়ে খুশি। প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক এই কাজ পাচ্ছেন। বন দপ্তর থেকে জনপ্রতি তাঁদের মজুরি দেওযা হচ্ছে ২৪৭ টাকা করে। এই শ্রমিকদের দেখাশোনা করছেন বস্তির মোড়ল যোগেশ্বর রাভা।

- Advertisement -

গাছের চারা লাগাতে লাগাতে ডাবরি বস্তির নির্মলা ওরাওঁ, কুরমাই বস্তির লায়লা রাভা বলেন, কঠিন সময়ে এভাবে বন দপ্তরের কাজ পেয়ে আমরা খুশি। এই মজুরির টাকা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। আরেক শ্রমিক হরেন রাভা বলেন, চিলাপাতায় এখন পর্যটন বন্ধ। কৃষিজমিতে দিনমজুরির কাজও সেরকম জুটছে না। তাই বন দপ্তরের এই কাজ পেয়ে আমরা বেঁচে থাকার সাহস পাচ্ছি।  চিলাপাতা-সিমলাবাড়ি যৌথ বন পরিচালন সমিতির সম্পাদক মলিন কার্জি বলেন, বন দপ্তরের এই উদ্যোগকে আমরা সবরকমভাবে সহযোগিতা করছি। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেইসব গাছকে বাঁচানোর জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। এইসব কাজে আশপাশ এলাকার শ্রমিকরা মজুরি পাওয়ায় এই কঠিন সময়ে বাঁচার রসদ খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি জানান, ২০ বছর আগে চিলাপাতার জঙ্গলে য়ে পরিমাণ গাছ ছিল এখন কিছুটা কমেছে। এজন্য বন দপ্তরের এই গাছ লাগানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

এ প্রসঙ্গে চিলাপাতার বিট অফিসার সনৎ শূর বলেন, কয়েক মাস থেকে বনাঞ্চলের আশপাশ এলাকায় থাকা ফাঁকা জমিতে গাছ লাগানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। চিলাপাতা ও বানিয়া বিট এলাকায় ৫৬ হাজার ৫০০ গাছ লাগানোর টার্গেট রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের মতো গাছ লাগানো হয়ে গিয়েছে। বাকি গাছ এই মাসের মধ্যে লাগানো হবে। বনজ সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওযা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার-১ পঞ্চায়েত সমিতি বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ পীযূষকান্তি রায় বলেন, চিলাপাতা বন দপ্তর এটা খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশপাশের মানুষও কাজ পাচ্ছেন। আমাদের তরফেও এরকম বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।