রক্তচক্ষুতে দেশ ছাড়লেন মহিলা ফুটবলাররা

লাহোর : অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ভরা ভবিষ্যৎ। তা সঙ্গী করেই নিজ দেশ ছেড়ে পরভূমে পাড়ি দিতে বাধ্য হলেন আফগানিস্তানের মহিলা ফুটবলাররা।

বুধবার আফগানিস্তানের তুরখুম সীমান্ত পেরিয়ে তাঁরা পা রাখলেন প্রতিবেশী পাকিস্তানের মাটিতে। লাহোরে পা রাখতেই আফগান মহিলা টিম ও কোচিং স্টাফ সহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের টুইটবার্তায় স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি। তবে কতজন খেলোয়াড় সীমান্ত পেরিয়ে লাহোরে এসেছেন, তা স্পষ্ট করেননি পাক মন্ত্রী।

- Advertisement -

প্রায় দুদশকের ব্যবধানে আফগানিস্তান ফের তালিবানের দখলে। যার জেরে অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ। ক্রীড়াক্ষেত্রে ছবিটা আরও ভয়াবহ। প্রশ্নচিহ্ন আফগান মহিলা ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ ঘিরে। দেশ ছেড়েছেন অধিকাংশ আফগান মহিলা ফুটবলাররা। আপাতত পরিবার নিয়ে তাঁদের ঠাঁই হয়েছে লাহোরে ফিফা হাউসে।

আফগানিস্তানে শাসন ক্ষমতা দখল করতেই মেয়েদের ক্রীড়াক্ষেত্রে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালিবান। দুদশক আগে তালিবান শাসনে শিক্ষা কিংবা বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগের কোনও অধিকার ছিল না আফগান মহিলাদের। সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে বর্তমান আফগানিস্তানে। গত সপ্তাহে আফগান মহিলা ক্রিকেট টিমের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন তালিবান কালচারাল কমিশনের মুখ্যকর্তা আহমেদুল্লাহ ওয়াসিক। আফগান মেয়েদের ক্রীড়াক্ষেত্রে যোগদান ইসলামের পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন তিনি।

তালিবানি রক্তচক্ষুর হাত থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়েছেন প্রাক্তন-বর্তমান সময়ে বহু ক্রীড়াবিদ। যারা রয়ে গিয়েছেন তাঁরা আত্মরক্ষার্থে পুড়িয়ে ফেলছেন নিজেদের ক্রীড়াসরঞ্জাম। মেয়েদের ক্রিকেট খেলায় নিষেধাজ্ঞার জেরে বয়কটের মুখে পড়তে পারেন রশিদ খান, মহম্মদ নবীরাও। সবমিলিয়ে অনিশ্চয়তার অতলে আফগানিস্তানের খেলাধূলার ভবিষ্যৎ।