আফগান মহিলাদের খেলায় নিষেধাজ্ঞা তালিবানের

কাবুল : আশঙ্কা ছিলই।

হেরফেরও হল না। আফগান-মহিলাদের খেলাধূলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল তালিবান সরকার। যুক্তি, মেয়েদের ক্রীড়াক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ইসলাম বিরোধী। এর ফলে প্রকাশ্যে মহিলাদের শরীর প্রদর্শন হয়। তাই আফগান নারীরা কোনও ক্রীড়াতে অংশ নিতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকছে ক্রিকেটও।

- Advertisement -

আফগানিস্তান দখলের পর নারী-স্বাধীনতা নিয়ে আশ্বস্ত করেছিল তালিবান নেতারা। যদিও বাস্তব ছবিটা একেবারেই উলটো। তালিবানের কালচারাল কমিশনের উপপ্রধান আহমাদউল্লাহ ওয়াসিকের বক্তব্যে তা পরিষ্কার।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ক্রিকেট সহ কোনও খেলায় নারীদের অংশগ্রহণের কোনও প্রযোজন নেই। ক্রীড়ায় অংশ নিতে হলে, মহিলাদের মুখ ও শরীর অনেক সময়ই ঢাকা থাকবে না। ইসলাম নারীদের এভাবে দেখার অনুমতি দেয় না। এখন মিডিয়ার যুগ। খেলার ছবি, ভিডিও হয় এবং মানুষ তা দেখে। তাই প্রকাশ্যে নারীদের আসতে হয়, এমন কোনও খেলাতেই অনুমতি দেওয়া হবে না।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ২৫ জন মহিলা খেলোয়াড়ের বার্ষিক চুক্তি রয়েছে। এদিনের বক্তব্যের পর এই ২৫ জন সহ দেশের সমস্ত খেলোয়াড়দের কেরিয়ারে নেমে এল অন্ধকার। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অনেকে আবার খেলার সমস্ত সরঞ্জাম হয় লুকিয়ে নয়তো নষ্ট করে ফেলেছেন তালিবানের ভয়ে। নিষেধাজ্ঞার পর ক্ষীণ আশাটুকুও কার্যত শেষ।

এদিকে, চলতি পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান টেস্ট সিরিজ। ২৭ নভেম্বর হোবার্টে টেস্ট খেলার কথা দুই দেশের। কিন্তু রশিদ খান ব্রিগেডের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া খেলবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুরোটাই নির্ভর করছে অজি সরকারের ওপর। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সিইও নিক হকলে জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য আফগানিস্তান। টি২০ বিশ্বকাপেও খেলার কথা। শেষপর্যন্ত সবকিছু কী দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকারই।

মহিলা ক্রিকেট নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার ফলে, আইসিসির শাস্তির খাঁড়াও নেমে আসতে পারে। সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী এরকম কিছু ঘটলে, সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। অর্থাৎ, আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের মর্যাদা হারাতে পারে আফগানিস্তান।