৩৫ বছরে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়নি

291

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : দীর্ঘ ৩৫ বছরেও রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের কোদালকাটি গ্রামে পালানু মোড় থেকে ধরমবাড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তাটি আজও পাকা হয়নি। বাসিন্দারা এনিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দরবার জানালেও আজও সমস্যার সুরাহা হয়নি। ভোটের সময় নেতারা এসে প্রতিবার রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রতি দেন। তারপর ভোট পেরিয়ে গেলে নিয়ম করে তা ভুলেও যান। ফলে বাসিন্দাদের বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তা ধরেই যাতায়াত করতে হয়। জলকাদার সময় অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় হয়। পডুয়ারা তখন জুতো হাতে স্কুলে যায়। সেখানে পৌঁছে ভালো করে পা ধুয়ে ব্যাগ থেকে ইউনিফর্ম বের করে গায়ে চাপিয়ে পড়তে বসে। বছরের পর বছর ধরে এমনটাই চলে আসায় বাসিন্দাদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। শীঘ্রই সমস্যা না মেটানো হলে তাঁরা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, রাস্তাটিকে পাকা করতে বাসিন্দারা বহুদিন ধরেই আমাদের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এজন্য প্রচুর টাকার প্রযোজন রয়েছে। পঞ্চায়েতের তহবিলে এত টাকা নেই। আমরা বিষয়টি উপরমহলে জানিয়েছি। টাকার সংস্থান হলেই রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। রাস্তাটিকে পাকা করার জন্য প্রযোজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ আশ্বাস দেন।

- Advertisement -

কোদালমাটি গ্রামে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদের অধিকাংশই কৃষিকাজে যুক্ত। বেশির ভাগ মানুষই দারিদ্র‌্যসীমার নীচে বসবাস করেন। অন্যান্য সমস্যা থাকলেও কাঁচা রাস্তাটি বাসিন্দাদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলেছে। গরমের দিনে ধুলো আর বর্ষার সময় জলকাদা, এই রাস্তা নিয়ে বাসিন্দাদের ভোগান্তি বছরের পর বছর ধরে চলছেই। বাসিন্দারা এই রাস্তাটি ধরেই হাটেবাজারে যান। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ার কারণে ক্রান্তি ও আশপাশের হাটবাজারে ফসল বিক্রি করতে নিয়ে যেতে বড় বড় গাড়িকে এলাকায় আসতে হয়। কিন্তু রাস্তার এই করুণ দশার জেরে কোনও গাড়িই এই এলাকায় আসতে চায় না। যদিও বা কোনও গাড়ি আসে, বাসিন্দাদের মোটা টাকা গুনতে হয়। রাস্তার বেহাল দশার জেরে অ্যাম্বুল্যান্স বা মাতৃযান এলাকায় ঢুকতে সমস্যায় পড়ে। গ্রামে শতাধিক শিশু রয়েছে। তারা এই রাস্তা পেরিয়ে প্রাথমিক স্কুল, শিশুশিক্ষাকেন্দ্র, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে যায়। জলকাদায় জুতো আর ইউনিফর্ম নষ্ট হওয়ার ভয়ে বৃষ্টির দিনে তারা হাতে জুতো আর ব্যাগে ইউনিফর্ম ভরে স্কুলে যায়।

এলাকার বর্ষীয়ান নাগরিক তথা নয়ের দশকের মাল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জীবনকৃষ্ণ রায় বলেন, সরকারের তরফে কোদালকাটি গ্রামকে পিছিয়ে পড়া এলাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। এলাকার রাস্তা পাকা করতে আমরা ৩৫ বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। গরমের দিনে ধুলা আর বর্ষাকালে এক কোমর কাদায় যাতায়াত যে কী মুশকিল, ভুক্তভোগী না হলে বোঝানো শক্ত। সরকারের তরফে অলিগলিতে পাকা রাস্তা করা হচ্ছে। এলাকার মূল এই রাস্তাটিকে পাকা করতে আমি নিজে পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের উচ্চস্তরে বহুবার দাবি জানালেও কোনও কাজের কাজ হয়নি।

এলাকাবাসী তথা স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বাবুরাম মার্ডি বলেন, বর্ষার দিনে এই রাস্তা পেরিয়ে যাতায়াতে পডুয়াদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তাদের শরীর, পোশাক জলকাদায় ভরে যায়। রাস্তা পাকা করা হবে বলে আমাদের প্রতিশ্রতি দেওয়া হলেও আখেরে তা কোনও দিনই বাস্তবায়িত হয় না। বছরের পর বছর ধরে জলকাদা পেরিয়ে যাতায়াতই আমাদের ভবিতব্য হয়ে গিয়েছে। রাস্তাটি পাকা করতে সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত দাবি জানানো হয়েছে বলে বাবুরামবাবু জানান।