৫০ বছরেও সেতু হয়নি, বর্ষায় নৌকা ভরসা

264

জগন্নাথ রায়, ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুটুঙ্গা নদীর দোমুখার পাড়ে পাকা সেতুর দাবি প্রায় পাঁচ দশক আগের। কিন্তু এখনও গ্রামবাসীদের পাকা সেতুর দাবি পূরণ হয়নি। ভোট এলে নেতারা সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু, একটির পর একটি ভোট চলে গেলেও দাবি পূরণ হয়নি। ভারী বৃষ্টি হলে নৌকা করে ও অন্যান্য সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে বাসিন্দারা যাতায়াত করেন।

সাপ্টিবাড়ির ওই অংশে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার সীমানা বরাবর সুটুঙ্গা নদী প্রবাহিত হয়েছে। সাপ্টিবাড়ির পূর্ব বারোঘরিয়াতে ধারাইকুড়ি ও শৌলি নদী মিলিত হয়ে সুটুঙ্গার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তা দোমুখার পাড় নামে পরিচিত। দোমুখার পাড় হয়ে ভোট বাড়ি, গিদালের বাড়ি, চুকানিপাড়া, ছিলিমখাওয়ার ডাঙা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও হাটবাজারের জন্য সুটুঙ্গা পেরিয়ে ওপাড়ে যেতে হয়। প্রতিবছর বর্ষার শুরুতে ধারাইকুড়ি ও শৌলি নদীর জলে দোমুখার পাড়ের বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়। বর্ষার কয়েক মাস সাইকেল, বাইক ও মালপত্র নিয়ে নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্তকুমার রায় বলেন, দোমুখার পাড়ে পাকা সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদেও আমরা লিখিতভাবে সেতুর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি। আর এক বাসিন্দা বিনোদ রায় বলেন, বর্ষার শুরুতে সাঁকো ভেসে যায়। আমরা সকলের সহয়োগিতায় এই নৌকা তৈরি করেছি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রেনুকা রায় বলেন, দোমুখার পাড়ে সেতুর অভাবে ভারী বৃষ্টিতে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তারা পরীক্ষা দিতে যেতে পারে না। সেখানে পাকা সেতু হওয়া খুব দরকার। সাপ্টিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বুলবুল আলম বলেন, পাকা সেতুর অভাবে ওই এলাকার উন্নয়ন থমকে রয়েছে। একটি পাকা সেতু হলে ওই এলাকার অনেক উন্নতি হবে। সেখানে সেতু তৈরির জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা পঞ্চায়েত থেকে করা সম্ভব নয়। বিষয়টি জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার কাছে ৭০টি সেতুর দাবি এসেছে। আমি সেগুলি রাজ্যে পাঠিয়েছি।