৭৪ বছর পর রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ জেলা পরিষদের

0

সাজাহান আলি, পতিরাম: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৪ বছর পর বেহাল ও বর্ষাকালে চলাচল অযোগ্য রাস্তার মেরামতি তথা নির্মাণকাজ শুরু করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ। বালুরঘাট ব্লকের বোল্লা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বসন্তহার থেকে বদলপুর ব্রিজ ভায়া পূর্ব মহেশপুর গ্রামের রাস্তার কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য মফিজ উদ্দিন মিয়াঁ, স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য শিপ্রা নিয়োগী, জেলা পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, শঙ্কর সরকার, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পলি পাল, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য পূর্ণিমা ওঁরাও প্রমুখ। বুধবার দুপুরে এই রাস্তার আনুষ্ঠানিকভাবে শিলান্যাস অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় পূর্ব মহেশপুর গ্রামে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বিজিএসওয়াই তহবিল থেকে বসন্তহার থেকে বদলপুর ব্রিজ ভায়া পূর্ব মহেশপুর প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার জন্য প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ হয়েছে ৪১,০১,৪২৫ টাকা। দীর্ঘকাল পর অত্যন্ত বেহাল এই রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন যারপরনাই খুশি। তাঁরা জেলা পরিষদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ সংবাদকে তাদের ভূমিকা পালনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানান। কারণ এই রাস্তার বেহাল দশা ও এলাকার মানুষজনের সীমাহীন দুর্দশার সচিত্র প্রতিবেদন অনেকবার উত্তরবঙ্গ সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে।

- Advertisement -

বসন্তহার গ্রাম থেকে বদলপুর ব্রিজ ভায়া পূর্ব মহেশপুর গ্রামের রাস্তার কাজের সূচনা করে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় বলেন, ‘দেরিতে হলেও এই রাস্তার কাজের সূচনা করতে পেরে আমরা খুব খুশি। কারণ রাস্তা পাকা না হওয়ায় এলাকার মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে অসুবিধা ভোগ করছিলেন। আমরা পুরো রাস্তাটা পর্যায়ক্রমে শেষ করার চেষ্টা করব।‘
জেলা পরিষদের পক্ষে মফিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, ‘এই রাস্তার জন্য মানুষের দীর্ঘকালের দুঃখ-বেদনার কাহিনী আমি ভালোভাবে জানি। শেষ পর্যন্ত এই রাস্তার কাজের সূচনা হওয়ায় আমি বিশেষভাবে খুশি। কারণ রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকার মানুষজনের দীর্ঘদিনের দুঃখ কষ্ট দূর হবে।‘

জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যা শিপ্রা নিয়োগী এদিনের অনুষ্ঠানে স্বীকার করেন, ‘এই রাস্তা অনেক আগে হলেই ভালো হত। তবুও শেষ পর্যন্ত জেলা পরিষদের অধীনে রাস্তার কাজের সূচনা হওয়ায় আমি খুব খুশি। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে এই রাস্তার কাজ শেষ করা হবে।‘

জেলা পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলাবাসীর উন্নয়নে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব সমস্যার সমাধান করা হয়ত এখনই সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সমস্যার গুরুত্ব অনুযায়ী সেগুলি কে চিহ্নিত করে তার সমাধান করার।‘

সুদীর্ঘকাল পরে বসন্তহার গ্রাম থেকে পূর্ব মহেশপুর গ্রাম হয়ে বদলপুর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল মহন্ত বলেন, ‘আমাদের এই রাস্তা শুকনোর সময় প্রচন্ড ধুলোয় ভরা, আর বর্ষাকালে এক হাঁটু কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গ্রামে যাতায়াতের রাস্তা এতকাল ধরে বেহাল থাকায় আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। এতকাল পর এই রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় আশা করছি, এবার আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।‘

পূর্ব মহেশপুরের প্রবীণ বাসিন্দা মঈনুদ্দিন সরদার বলেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে বর্ষাকালে চলাচল অযোগ্য রাস্তার জন্য আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। কোন কৃষক ধান বিক্রি করতে গেলে তাকে মাথায় করে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। বর্ষাকালে যানবাহন চলাচলের কোনো সুযোগ না থাকায় এমনও হয়েছে, এই রাস্তায় গর্ভবতী মাকে খাটিয়ায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় প্রসব হয়ে গিয়েছে। আবার অসুস্থ মানুষকে রাতের বেলায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই মৃত্যু হয়েছে। সুদীর্ঘকাল পর এ রাস্তার কাজের সূচনা হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে খুশি।‘

এলাকার আরেক বাসিন্দা প্রতীক ভগৎ সহ অনেকেই বলেন, ‘আমাদের এই বেহাল রাস্তা কথা বহুবার উত্তরবঙ্গ সংবাদ যেভাবে তুলে ধরেছে তার জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবি, আন্দোলন ও উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রতিবেদন ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা সকলের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এলাকার বাসিন্দারা সকলেই চাইছেন যথা শীঘ্র এই রাস্তার কাজ শুরু হোক এবং বসন্তহার থেকে বদলপুর ব্রিজ পর্যন্ত পুরো পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা যত শীঘ্র সম্ভব জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মান কাজ সম্পন্ন হোক।‘