রানিগঞ্জের নিমচায় ধস, খনিগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ স্থানীয়দের

211

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার অণ্ডালের পরে এবার আসানসোলের রানিগঞ্জের নিমচা গ্রামে ধসের ঘটনা ঘটল। বুধবার সকালে নিমচায় ইসিএলের পরিত্যক্ত খোলামুখ কয়লাখনির পাশে এই ধস নামার ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ২০ ফুটের মত জায়গা জুড়ে ধস নামায় ফাটল দেখা দেয়। তাতে ৪০ ফুটের মতো গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। এদিনের ধসের জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক জায়গায় গিয়েছে, ধস বাড়লে যে কোনও সময় খনিগর্ভে চলে যাবে সাতগ্রাম এরিয়ার নিমচা গ্রামের ইসিএলের বিদ্যুতের সাব স্টেশনটি। ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ইসিএলকে। এই ঘটনা ঘটলে সাতগ্রামের প্রায় ১০টি গ্রাম ও তার আশপাশের এলাকাও অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম মল্লিক বলেন, হঠাৎ করেই এদিন সকালে বিকট শব্দ শুনতে পাই। ছুটে গিয়ে দেখি গ্রামের পাশে ফাঁকা মাঠে ২০ ফুট জায়গা জুড়ে ধস নেমেছে। ফাটল ধরে গর্ত হয়েছে। গ্রামাবাসীরা বলেন, এই ফাঁকা মাঠের অদূরেই রয়েছে ইসিএলের পরিতক্ত খোলামুখ কয়লা খনি। সেই খনিতে একটা সময় কয়লা উত্তোলন হত। খনিগর্ভের ভেতরে ফাঁকা জায়গা থাকায় মাঝে মাঝেই ধস নামে। ধসের খবর পেয়ে রানিগঞ্জ থানার পুলিশ ও ইসিএলের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছান। বিপদ এড়াতে ধস কবলিত এলাকাট চারপাশ বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করা হয়েছে।

- Advertisement -

ইসিএলের সাতগ্রাম এরিয়ার আধিকারিকরা এলাকায় দাঁড়িয়ে থেকে ধসের জায়গা মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন। তবে গোটা ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন নিমচা গ্রামের বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগেও এই এলাকায় ফায়ার ফাইটিং প্রজেক্টের জন্য কয়লা তোলা হত। কিন্তু ২০০৯ সালের পর এখান থেকে কয়লা তোলা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ মাটির তলায় আগুন লেগে গিয়েছিল। প্রায় এক দশক আগে বিধ্বংসী ধস নামে এই এলাকায়। তারপরে এই জায়গাকে ধসপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়। গ্রামের মানুষের অভিযোগ, ফায়ার ফাইটিং প্রজেক্টে কয়লা উত্তোলনের পর সঠিকভাবে খনির নিচে ফাঁকা জায়গা ভরাট না করার জন্যই এইভাবে মাঝেমধ্যেই ধসের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই অণ্ডালে ধস নামার ঘটনা ঘটেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শতাধিক ঘরবাড়ি। মাটির নীচে চাপা পড়ে যায় একাধিক গাড়ি। আতঙ্কে গ্রাম ছাড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এই ঘটনার চারদিন পরে অণ্ডাল টপ লাইন থেকে বহুলা যাওয়ার প্রধান রাস্তার উপরে হরিশপুর গ্রামেও ধসের ঘটনা ঘটে। তাতে এলাকার ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরপর ধসের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে পুনর্বাসন না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ধস কবলিত সেই সব এলাকার বাসিন্দারা। তবে ইসিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, কোম্পানি আমলে অবৈজ্ঞানিকভাবে কয়লা তোলা ও পরে বেআইনি কয়লা খনির জন্য এইভাবে ধসের ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন এলাকায়।