করোনামুক্তির পর টিকার জোড়া ডোজে স্বস্তি ডেল্টায়

224
ছবি : সংগৃহীত

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : আপনি যদি করোনামুক্ত হওয়ার পর ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়ে থাকেন তাহলে কোভিড-১৯-এর এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক হিসাবে চিহ্নিত ডেল্টা এবং ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের মোকাবিলা সহজেই করতে পারবেন। তবে, নিতে হবে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর এক গবেষণায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে। এতে আশার আলো দেখা দিলেও এখনই গা-ছাড়া মনোভাব দেখাতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা। কারণ এই গবেষণা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে তা সময়ই বলবে।

যে কোনও ভাইরাসঘটিত রোগে সংক্রামিত হলে সুস্থ হওয়ার পর রোগীর শরীরে সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। করোনার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হচ্ছে। কিন্তু করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি বেশিদিন কাজ করছে না বলেই এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় ধরা পড়েছে। যার ফলে দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয়বারও অনেকে করোনা সংক্রামিত হচ্ছেন। সংখ্যায় খুব কম হলেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে অথবা দ্বিতীয়, তৃতীয়বার করোনা সংক্রামিত হয়ে মৃতু্য় হয়েছে এমন উদাহরণও রয়েছে।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে ডেল্টার সংক্রমণ নিয়ে যথেষ্টই চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্যকর্তাদের কপালে। ভ্যাকসিন চাহিদার তুলনায় অনেক কম পরিমাণে আসছে। ফলে টিকাকরণ বাড়িয়ে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বিরুদ্ধে মোকাবিলায় অনেকটাই পিছিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর। এরই মাঝে আইসিএমআর-এর নতুন গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে।

পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (এনআইভি)- তে একটি গবেষণার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তিনটি ভাগে রোগীদের ভাগ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। করোনামুক্ত হওয়ার পরে টিকার একটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তি, করোনামুক্ত হওয়ার পরে দুটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তি এবং পরপর দুবার করোনা সংক্রামিত হয়েছেন এবং তার মাঝেই টিকা নিয়েছেন- এমন ব্যক্তিদের উপর গবেষণা চালানো হয়েছে। এঁদের প্রত্যেকের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে সেই রক্তের সঙ্গে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের স্পার্ক প্রোটিন ম্যাচ করছে কি না সেটা দেখা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট হয়েছে, একবার করোনা হয়ে যাওয়ার পর নিয়ম মেনে যাঁরা কোভিশিল্ডের দুটো ডোজ নিয়েছেন তাঁদের শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি ডেল্টার যে কোনও স্ট্রেনকে রুখতে সক্ষম হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)-র বিজ্ঞানী ডাঃ শান্তনু হাজরা বলেন, আমাদের এখানে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ডেল্টার সংক্রমণ হয়েছে। আইসিএমআর গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, করোনা হওয়ার পর কোভিশিল্ডের দুটি ডোজ নেওয়া থাকলে ডেল্টার স্ট্রেন থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যাবে। আর আমাদের এখানে কোভ্যাকসিনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গবেষণাই বলছে যে, তৃতীয় ঢেউয়ে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। এখন এই গবেষণা বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে তা আগামী কয়েক মাসে বোঝা যাবে।

মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসার ডাঃ কল্যাণ খান বলেন, আমাদের এখানে কোভ্যাকসিনের চেয়ে কোভিশিল্ড অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে। ধরেই নেওয়া যায় যে, করোনাজয়ীদের সিংহভাগই কোভিশিল্ড পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে ডেল্টার সংক্রমণ আমরা অনেকাংশেই রুখতে পারব। তবে এটাও ঠিক যে, দ্বিতীয় ঢেউয়ে উত্তরবঙ্গে প্রচুর ডেল্টার সংক্রমণ হয়েছে। এখানে অনেকের শরীরেই ডেল্টার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে রয়েছে। কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, ডেল্টা, কাপ্পা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে করোনাজয়ীরা সক্ষম এটা খুব ভালো খবর। কিন্তু মানুষকে করোনাবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলেই করোনাকে হারানো সম্ভব হবে।