সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলেও ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে সফল তনিমা

431

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: প্রায় চার বছর আগে পথ দূর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানুষটি। তাই সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হয়েছে দেবীনগর কৈলাস চন্দ্র রাধারানী বিদ্যাপীঠের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী তনিমা বিশ্বাসকে। এত সমস্যার মধ্যেও এবারে ৯৬ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে সে। রায়গঞ্জের উত্তর রুপাহারে বাড়ি তনিমাদের। বাবা তপন বিশ্বাস একজন সুদক্ষ মোটর বাইক মিস্ত্রী ছিলেন। চার বছর আগে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর বাইক দূর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন তিনি। এরপর শিলিগুড়িতে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে ফিরলেও কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

সংসারের ভার এসে পড়েছে তনিমার ওপর। বিঘা খানেক চাষের জমি রয়েছে। সেই জমিতে সারা বছর সবজি চাষ করে কোনও মতে দিন গুজরান হচ্ছে তাদের। সবজি চাষ থেকে বাজারে বিক্রি সবকিছুই মা রুপালির সঙ্গে তনিমাকে করতে হয়। সবজি করে যে আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে চারজনের। দুই ভাই বোনের পড়াশুনার খরচ এবং বাবার চিকিৎসার যাবতীয় খরচও সবজি চাষ করেই তুলতে হয়। একাকী চলাফেরা পর্যন্ত করতে পারেন না তপনবাবু। চলাফেরা করতে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিতে হয়। ভাই রুপম পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। তাকে স্কুলে পৌঁছানো, স্কুল থেকে নিয়ে আসা এবং টিউশনে পৌঁছে দেওয়া তনিমাকেই করতে হয়।

- Advertisement -

কলা বিভাগের ছাত্রী তনিমা ৪৮৪ নন্বর নিয়ে পাস করেছে এবছর। সে বাংলায় পেয়েছে ৯৫, ইংরেজিতে ৯৬, এডুকেশনে ৯৭, ভূগোলে ৯৭, দর্শনে ৯৭ এবং সংস্কৃতে ৯৭। ইচ্ছে আছে নাসিং প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্ত সেই ইচ্ছেপূরণ হবে কিনা সে জানে না। কারন আর্থিক কারনই সব ইচ্ছা পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিন জেলায় নাসিং প্রশিক্ষণে গেলে পরিবার কিভাবে চলবে সেই চিন্তা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

বাবা তপন এবং মা রুপালি চাইছেন, তাদের যতই কষ্ট হোক না কেন মেয়ে যেন নাসিং প্রশিক্ষণ নিয়ে আগামীদিনে সাধারন মানুষের সেবা করে এবং স্বনির্ভর হতে পারে। তনিমা জানায়, পরিবারে বড় মেয়ে হওয়ায় সব দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়েছে। বাবা অসুস্থ থাকায় অনেক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। জানিনা নার্সিং পড়ার ইচ্ছেপূরণ হবে কিনা। কারন আমি চলে গেলে পরিবার বিপদে পড়বে। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা রাখি বিশ্বাস, অনেক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে তনিমা ভালো রেজাল্ট করেছে। আশাকরি আগামীদিনে তার স্বপ্নপূরণ হবে।