বিসর্জন পর্ব শুরু হতে না হতেই দুর্গার কাঠামো নিয়ে হুড়োহুড়ি

325

রায়গঞ্জ: করোনার প্রবল দাপটের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রায়গঞ্জ বন্দর ও খরমুজাঘাট শ্মশানে সোমবার বিকেল থেকে শুরু হয় বিসর্জন পর্ব। সন্ধ্যা গড়তে না গড়তে রায়গঞ্জ বন্দর শ্মশানঘাটে বাড়ি ও বারোয়ারি মিলিয়ে প্রায় ২০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার কাজ শেষ করে পুরসভার কর্মীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

খরমুজাঘাট শ্মশানেও একই সঙ্গে চলে বিসর্জনপর্ব। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিসর্জন, তাই এদিন শহরের বড় বড় ক্লাবগুলি প্রতিমা বিসর্জন দেয়নি। পুরসভার তরফে, দুই শ্মশানঘাট সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে চলে বিসর্জনপর্ব। ঘাটে বিসর্জন করতে আসা পুজো কমিটিগুলির চার জনের বেশি সদস্যের প্রবেশের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

- Advertisement -

পুরসভার নিয়োজিত ঘাট কর্মীরা পুজো কমিটি গুলির থেকে প্রতিমা বুঝে নেওয়ার পর তারাই বিসর্জনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে এবারে ছিল হাতে গোনা মানুষ।

অন্যদিকে, বিসর্জনপর্ব চলাকালীন দেখা গেল প্রতিমার কাঠামো নিয়ে শুরু হয়ে গেছে হুড়োহুড়ি। পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সামনেই  কোমর ও গলা জলে নেমে কাঠামো দখল নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাল একদল যুবক। নদী থেকে কাঠামো তুলে নিয়ে আসতেই শুরু হয়ে যায় দরকষাকষি। ভালো দাম পাওয়ায় রাতেই অগ্রিম নিয়ে নেন কেউ কেউ।

নিজেদের সীমানা চিহ্নিত করে এক একজন কয়েক ডজন কাঠামো জড়ো করে ফেলে কুলিক নদীর পাড়ে। এই কাঠামোগুলি চলে যাবে রায়গঞ্জ শহরের মৃৎশিল্পীদের ঘরে। এই কাঠামো গুলির উপর তৈরি হবে নতুন প্রতিমা। করোনা পরিস্থিতির কারণে এমনিতে প্রতিমার দাম পাচ্ছেন না শিল্পীরা। তারমধ্যে বাঁশ ও কাঠের দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। তাই দুর্গার কাঠামো নিতে হুড়োহুড়ি এবারে বেশি অনেকটাই। সামনেই কালী পুজো হওয়ায় চাহিদাটা যথেষ্ট বেশি। রায়গঞ্জ বন্দর শ্মশানের ইনচার্জ বৈদ্যনাথ ঘোষ জানান, এলাকার কিছু যুবক বিসর্জনের পর নদী থেকে কাঠামো তুলে আনে। এবারে দেখছি ওরা তাড়াতাড়ি নদীতে নেমে পড়েছে। আমরা বিসর্জনের পর নদীর ঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিয়েছি।

স্থানীয়রা জানান, পুজোয় এবার আমাদের ভালো কাটেনি। পরিবারের সদস্যদের নতুন জামা কাপড় কিছুই হয়নি। তাই এই কাঠামো বিক্রি করেই পরিবারের সদস্যদের মুখে হাঁসি ফোটাবো। ওদের কথায় বোঝা গেল, প্রতি বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকে। তবে এবছর প্রতিটি প্রতিমা ছোটো হওয়ায় সেভাবে দাম মিলছে না।

স্থানীয় কাউন্সিলার তপন দাস জানান, এলাকার কিছু যুবক যারা সারা বছর নদীঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে তাঁরাই বিসর্জনের পর নদী থেকে কাঠামো গুলি তুলে আনে। কাঠামো দখল নিয়ে যাতে কোনো গন্ডগোল না হয় সেজন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। বন্দর শ্মশানের পাশাপাশি খরমুজাঘাট শ্মশানেও দেখা গেল প্রতিমার কাঠামো দখল  নিতে হুড়োহুড়ি। দশমীর রাতে বিসর্জন পর্ব তদারকি করেন রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যাান সন্দীপ বিশ্বাস, রায়গঞ্জ থানার আই সি সুরজ থাপা, কাউন্সিলার তপন দাস, কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহা, কাউন্সিলার সাধন বর্মন সহ অন্যান্যরা। রাতে খরমুজাঘাট শ্মশানে আসেন  রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার।