সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলেন আরও আট করোনা রোগী

153

রায়গঞ্জ: ফের আট জন সংক্রামিত রোগী সুস্থ হয়ে রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলেন। ফলে অনেকটাই স্বস্তিতে চিকিৎসক মহল।এদিন রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের ছটপাড়ুয়া এলাকার কোভিড হাসপাতাল থেকে ওই রোগীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে তিনজন নার্স একজন রায়গঞ্জ থানার পুলিশ অফিসার ছিলেন। এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ ফুলের তোড়া মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে সংবর্ধনা জানান কোভিড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর তারা স্বাস্থ্য দপ্তরের গাড়ি করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

রায়গঞ্জ কোভিড হাসপাতালের সুপার দিলীপ কুমার গুপ্তা বলেন, “একজন প্রসূতি মা ও চার দিনের নবজাতকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া দু’জন পুলিশ অফিসারের স্ত্রী এদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই মুহূর্তে মোট ৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। আশা করছি বাকিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।”

- Advertisement -

হাসপাতালে সূত্রে খবর, চলতি মাসের ২৩ তারিখে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মিলন পাড়ার এক বৃদ্ধার। তার সংস্পর্শে এসে সংক্রামিত হয়েছে তার ছেলে। তিনি বর্তমানে কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন বিভাগে কর্মরত তিন নার্স রোগীদের সংস্পর্শে এসে সংক্রামিত হয়েছেন। তাঁদের কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। শনিবার তাঁদের লালা নমুনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত কোভিড হাসপাতালে ৫০২ জন করোনা সংক্রমিত রোগী সুস্থ হয়েছেন। কোভিড হাসপাতালের নার্সিং সুপার করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। তিনি ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। আগামী কাল সোমবার ওই নার্সিং সুপারকে ছাড়া হবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের এক স্বাস্থ্যকর্মীর অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা করতে গিয়ে একের পর এক নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী সংক্রামিত হাওয়ায় রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘরেই এবার করোনা চিকিৎসা। করোনা ধরা পড়লে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা করাতে পারবেন রোগী। এর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত রকমের সাহায্য করবে স্বাস্থ্য দপ্তর। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিভিন্ন শহরে এই ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এদিন এই নিয়ে একপ্রস্থ বৈঠকও হয়। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত একটি কোয়াটারে থেকেই চিকিৎসা করছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই চতুর্থ শ্রেণীর স্বাস্থ্যকর্মী ক্রমশই সুস্থ হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় ছটপারুয়া কোভিড হাসপাতালে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় জেলায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে রায়গঞ্জ কোভিড হাসপাতালে আর খালি বেড নেই। প্রতিটি বেডেই রোগী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কোভিড হাসপাতালের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের রাখা হচ্ছে হেমতাবাদের সারি হাসপাতালে অথবা কর্ণজোড়া ক্রেতা সুরক্ষা ভবনে।