শামুকতলা : দীর্ঘ সাত বছর পর বৃহস্পতিবার পারোকাটা জুনিয়ার হাইস্কুলের উদ্বোধন হল। ১ জন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করে এদিন স্কুলটি চালু করা হয়। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা এই স্কুলে ভরতি হতে পারবে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পঠনপাঠন শুরু হবে। এতদিন পর স্কুলটি চালু হওয়ায় খুশির হাওয়া এলাকায়। অন্যদিকে,  বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।

২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে পারোকাটা জুনিয়ার স্কুলের অনুমোদন মেলে এবং সেই বছরই  স্কুলঘর স্থাপিত হয়। কিন্তু তারপর স্কুলটি চালুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্কুল শিক্ষা দপ্তর। একাধিকবার দপ্তরে দরবার করেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন খোদ স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য তথা পারোকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মনোরঞ্জন বর্মন। তিনি বলেন, ২০১২ সালে ভবন তৈরি হলেও স্কুল চালু হচ্ছিল না। ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। অবশেষে এতদিনে স্কুলটি চালু হল।

নতুন এই স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ পাবে মধ্য ও দক্ষিণ পারোকাটা, ব্রজেরকুঠি, খলিসামারি- এই চারটি গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা। এই গ্রামগুলির ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে কামাখ্যাগুড়ি ও চিকলিগুড়ি হাইস্কুলে পড়াশোনা করে। এখন ঘরের কাছেই স্কুল চালু হওয়ায় তাদের আর দূরে যেতে হবে না। এতদিন পর স্কুলের উদ্বোধন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সরকার। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুভব করেই সরকার গ্রামীণ এলাকায় এই স্কুল স্থাপন করেছিল। তা সত্ত্বেও অজানা কোনো কারণে স্কুলটি চালু করা হয়নি। দীর্ঘ ৭ বছর এলাকার ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় স্কুল শিক্ষা দপ্তরের। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আলিপুরদুয়ার পূর্ব সার্কেলের এসআই অনিমেষ দেবনাথ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এতবছর স্কুল চালু করা যায়নি। এদিন ১ জন অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করে স্কুলটি চালু করা হল। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পঠনপাঠন শুরু হবে। ছাত্রছাত্রী ভরতি হলে প্রয়োজনে আরও অতিথি শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। পরবর্তীতে স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য আবেদন জানানো হবে।