ষাট বছর কাটলেও পানীয় জল পায়নি প্রাইমারি স্কুল

253

গৌতম দাস, তুফানগঞ্জ : তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ধলপল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসবস এলাকার খাসবস স্পেশাল ক্যাডার প্রাইমারি স্কুলে পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। স্কুলটি ১৯৫৮ সালে তৈরি হলেও এত বছর পরেও পরিকাঠামোর কোনও উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ। স্কুলে পাঁচিল, পরিস্রুত পানীয় জল, মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য ডাইনিং রুমও নেই। এর জেরে স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্কুলঘর থেকে মিড-ডে মিলের রান্নার ঘর প্রায় ৮০ মিটার দূরে হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং শিক্ষকের অভাবে একই রুমে দুটো করে ক্লাস নেওয়া হয়। নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে এই বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণি শুরু হয়েছে। প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৪২ জন। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, মিড-ডে মিল খাওয়ার জন্য ডাইনিং রুম না থাকায় বারান্দায় বসেই মিড-ডে মিল খেতে হচ্ছে। মিড-ডে মিলের রান্নাঘর অনেকটা দূরে হওয়ায় রান্না করা খাবার নিয়ে আসার সময় ধুলোবালি খাবারে পড়তে পারে। দূর থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে বিপাকে পড়েন স্বনির্ভর দলের রাঁধুনিরাও। বৃষ্টি হলে এই অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পানীয় জলের জন্য একটি নলকূপ থাকলেও তা দিয়ে আয়রনযুক্ত জল বের হয়। কিন্তু একপ্রকার বাধ্য হয়ে ছাত্রছাত্রীরা সেই জলই খায়। এমনকি মিড-ডে মিলের রান্নাও ওই জল দিয়ে করা হয়। আয়রনযুক্ত জল খাওযায় অনেক পড়ুয়া পেটের রোগেও ভোগে বলে অভিযোগ। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সুরজিৎ দাস, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোনালিসা খাতুন জানায়, স্কুলের বারান্দায় বসে প্রতিদিন মিড-ডে মিল খেতে হয়। এতে স্কুলের পোশাক নোংরা হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে ভীষণ অসুবিধা হয়। মিড-ডে মিলের ডাইনিং রুম এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা হলে খুব ভালো হয়। রান্নার দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর দলের তরফে সাধনা বর্মনমণ্ডল বলেন, মিড-ডে মিল খাওযার জন্য ডাইনিং রুম না থাকায় পড়ুয়াদের খেতে সমস্যা হয়। বারান্দার মেঝেতে বসে বাচ্চারা খায়। তাতে ধুলোবালি উড়ে আসে। চারদিকে কুকুর ঘোরাঘুরি করে। এছাড়া স্কুলঘর থেকে রান্নাঘর দূরে হওয়ায় রান্না করা খাবার নিয়ে আসতেও সমস্যা হয়।

- Advertisement -

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমলচন্দ্র বর্মন বলেন, স্কুলের পরিকাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অরুণকুমার বর্মা বলেন, প্রাথমিক স্কুলগুলির জন্য ডাইনিং শেডের স্কিমের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু হবে। তুফানগঞ্জ-২ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক দ্রাবিড় দাস বলেন, স্কুলটির সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আশা করি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।