কাঁটাতারের বেড়া টপকে এবারও মায়ের আগমন হবে ৫৬ হেমকুমারিতে

0
154
- Advertisement -

মেখলিগঞ্জ: প্যান্ডেল কিংবা আলোকসজ্জা নয়। নিয়মনিষ্ঠাই প্রাধান্য পায় মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দুর্গাপুজাগুলিতে। এক্ষেত্রে অধিকাংশের বক্তব্য, দুর্গাপুজার খরচ অন্যান্য পুজোগুলির তুলনায় অনেক বেশি। তাই পুজার আয়োজনের খরচ জোগাতেই অনেককে হিমশিম খেতে হয়। কারণ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এইসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। যার কারণে অনেক স্থানে গ্রামবাসীদের মা দুর্গাকে এলাকায় নিয়ে আসার ইচ্ছা থাকলেও সেটা সম্ভব হয় না।

এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কোথাও তাঁরা নিজেদের গ্রামে মা দুর্গাকে নিয়ে আসার জন্য এবারও প্রস্তুতি নিয়েছেন বটে কিন্তু বাজেটে কাটছাট করেছেন। অর্থাভাবের কারণে পড়শীদের কাছে চাঁদাও তোলার সাহস দেখাচ্ছেন না। গ্রামের মানুষ নিজেরা স্বেচ্ছায় যতটা সম্ভব দিয়েই মা দুর্গাকে নিয়ে আসার প্রস্তুতিতে নেমেছেন।

তবে আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুজার অন্যান্য খরচে বুঝে শুনে চলার বিষয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করলেও নিয়ম নিষ্ঠার দিকে এবারও তাঁরা খামতি রাখতে চাইছেন না। বরং তাদের অনেকে এবার নিয়মনিষ্ঠার দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন। এবারও দুর্গাপূজার আয়োজনে সামিল হয়েছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রামের কাঁটাতারের বেড়াবন্দী ৫৬ হেমকুমারী গোলাপাড়ার বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য অর্থাভাবের কারণে সীমান্তের বেড়াবন্দী এই গ্রামে আগে দুর্গোৎসব হত না। দুই ব্যবসায়ী পাপু কর এবং দিব্যেন্দু ধরের বিশেষ সহযোগিতায় গত দুবছরের মত এবারও কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে মা দুর্গা এই গ্রামে আসছেন। যা নিয়ে এলাকায় মঞ্চ তৈরি সহ বিভিন্ন প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা তথা স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জন রায় বলেন, ‘বিগত বছরগুলির মত এবারও মা দুর্গার আগমন ঘটছে এলাকায়। মায়ের পুজার আয়োজনে নিয়ম নিষ্ঠার দিকে যাতে কোনওরকম ত্রুটি না থাকে সেটা বরাবরই দেখা হয়। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত এলাকার দেবীকলোনীর দুর্গাপুজা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরানো।‘

পুজো কমিটির সম্পাদক মদন মোহন সরকার জানান, নিয়মনিষ্ঠা তাদের পুজোর একটি অন্যতম প্রধান দিক। এবারও সেদিকে প্রথম থেকেই খেয়াল রাখা হচ্ছে। মাথায় রাখা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধির কথাও।

- Advertisement -