তিন বছর পর ফের কুড়ি শতাংশের বোনাস পাবেন চা শ্রমিকরা

915

নাগরাকাটা: ৩ বছর পর ফের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বোনাস ফিরল ডুয়ার্স-তরাইয়ের চা বাগানে। শুক্রবার ভার্চুয়াল দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আলোচনায় এবারের চা বোনাসের সমস্যা নিষ্পত্তি হয়। ডান-বাম সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলিই বোনাস চুক্তিকে একযোগে স্বাগত জানিয়েছে। বোনাসের হারে খুশি ৩ লক্ষ শ্রমিক। এবারে পাহাড়ের ৮৭ টি চা বাগানের বোনাস চুক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সেখানকার শ্রমিকরা।

পাহাড়ের ভার্চুয়াল বোনাস বৈঠক আগামী শনিবার দুপুর দুটো থেকে শুরু হবে। চা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন কনসালটেটিভ কমিটি অফ প্ল্যান্টেশন অ্যাসোসিয়েশন(সিসিপিএ)-র সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহা বলেন, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে বাগানগুলি শ্রমিকদের হাতে বোনাসের টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। এবারের দ্বিপাক্ষিক স্তরের বোনাস আলোচনায় ডুয়ার্স-তরাইয়ের মোট ১৬৩ টি বাগান অংশ নেয়। যে সমস্ত বাগান অংশ নেয়নি তাঁদের মধ্যে একাধিক উল্লেখযোগ্য কিছু নাম আছে। ওই সমস্ত বাগানগুলি এদিনের চুক্তিকেই অনুসরণ করবে বলে চা শ্রমিক সংগঠনগুলি জানিয়েছে।

- Advertisement -

গত বছর ১৮.৫০ শতাংশে বোনাসের রফা সূত্র হয়েছিল। রুগ্নতার কারণে সেবার অবশ্য ২৯টি বাগানকে ওই হার থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবার ছাড়প্রাপ্ত বাগানের সংখ্যা বেড়ে ৩৯টি হয়েছে। তবে সেক্ষেত্রেও গত বছর ওই সব বাগানে যে হারে বোনাস দেওয়া হয়েছিল তার থেকে ১.৫ শতাংশ বেশি হারে বোনাস দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার বোনাসের পরিমাণ কষার সিলিং বাড়িয়ে ১৪৫০০ টাকা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ছাড়প্রাপ্ত বাগানগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন হারের বোনাসের হার ৯.৮৩ শতাংশ। ২০১৮ ও ২০১৭ সালে বোনাস রফা হয়েছিল যথাক্রমে ১৯.৫০ ও ১৯.৭৫ শতাংশ হারে। তার আগে অবশ্য টানা কয়েক বছর ২০ শতাংশেই বোনাস রফা হয়।

চা শ্রমিকদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট ফোরামের অন্যতম আহ্বায়ক জিয়াউল আলম বলেন, করোনার এমন সংকটজনক মূহুর্তেও শ্রমিকরা যেভাবে চা শিল্পের জন্য প্রাণপ্রাত করে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে ২০ শতাংশের এই বোনাস তাঁদের না দেওয়া হলে সেটা চরম অন্যায় হতো। ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকরা মালিকদের এটা বোঝাতে পেরেছে। আশা করছি, পাহাড়ের বাগানের শ্রমিকরাও একলপ্তে একই হারের বোনাস পাবে। ফোরামের আরেক আহ্বায়ক মণি কুমার দার্নাল বলেন, এই বোনাস চুক্তি শ্রমিক একতার জয়।

আলিপুরদুয়ারের সাংসদ ও ভারতীয় টি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জন বারলা বলেন, আমাদের টানা আন্দোলনের ফসল এই ২০ শতাংশের বোনাস। তবে পুজোর আগেই যদি স্টাফদের বেতন বৃদ্ধি, চা শ্রমিকদের এক্সট্রা লিফ পাইস (ইএলপি)-এর মতো অন্যান্য বকেয়া ইশ্যুগুলি নিয়ে মালিকপক্ষ পদক্ষেপ না করে তবে ফের আন্দোলন শুরু হবে। আগামী ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগানগুলিতে আমাদের যে বিক্ষোভ কর্মসূচী ছিল সেটা বহাল রাখা হবে কিনা তা বৈঠক করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কাস ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অলোক চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চা শ্রমিকরা যে প্রকৃত অর্থেই এই শিল্পের জন্য অবদান রেখেছে আমরা সেটা মালিকদের বোঝাতে পেরেছি। এটাই বড় আত্মতুষ্টির জায়গা। যে সমস্ত বাগান বোনাস চুক্তিতে অংশ নেয়নি সেই বাগানগুলি থেকে ২০ শতাংশ হারেই বোনাস আদায় করা হবে বলে সংগঠনগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তরাই ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি নকুল সোনার বলেন, ছাড়প্রাপ্ত বাগানগুলিতেও গত বারের থেকে ১.৫ শতাংশের বোনাস বেড়েছে। এটাও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পিটিডব্লিউইউয়ের চেয়ারম্যান তেজকুমার টোপ্পো বলেন, বোনাস ছাড়াও শ্রমিকদের বাড়তি ইনসেনটিভ দেওয়ার দাবি আমাদের রয়েছে।