২০ বছরেও দাবি কানে ঢোকেনি, বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে যাতায়াত

227

কৌশিক দাস, বড়দিঘি  : মাল ব্লকের অন্তর্গত কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপুচাপুর ডিভিশনের বাসিন্দারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে পাকা সেতুর দাবি জানালেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে নেপুচাপুর সহ চেলধুরা, মেচপাড়া, গোলাবাড়ি, নিজামবাড়ি, রামধুরা, বারোঘড়িয়ার মতো একাধিক গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা দুর্বল বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোমতে কুমলাই নদী পারাপার করেন। সেই সাঁকোটির বেশ কিছু অংশ নষ্ট হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সেটি ভেঙে পড়লে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য অনু খেরিয়া বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে এখানে পাকা সেতু তৈরি সম্ভব নয়। এই নিয়ে বহুবার উপরমহলকে লিখিত আবেদন জানালেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। সমস্যা না মেটায় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আমাদের দুষছেন। বিষয়টি হতাশাজনক। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, নেপুচাপুর ডিভিশনের সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা বিভিন্ন এলাকার সেতুর দাবিগুলো খতিয়ে দেখছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা অনুসারে সেতু তৈরি করা হবে। জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় বলেন, সেতু তৈরির বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাল ব্লকের অন্তর্গত কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপুচাপুর ডিভিশনে কুমলাই নদীর উপর পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি রয়েছে। গ্রামবাসীরা পাকা সেতুর জন্য প্রশাসনের কাছে বহুবার দাবি জানালেও কোনো লাভ হয়নি। বিভিন্ন নির্বাচনে এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলি এখানকার এই সমস্যা মেটানোর বিষয়ে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরই দলগুলি তাদের সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যায় বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা জানান, নদীতে সারা বছরই জল থাকে। বাসিন্দারা জানান, শুখা মরশুমে নদীতে জল কম থাকলেও নদী পারাপার করা সম্ভব নয়। তাই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নদী পারাপারের জন্য সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে সাইকেল কিংবা বাইক নিয়ে কোনোমতে পারাপার করা গেলেও পণ্যবাহী কোনো গাড়ি পারাপার করতে পারে না। সেগুলিকে ঘুরপথেই যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় জলের তোড়ে বাঁশের সাঁকো ভেঙে যায়। তখন নদী পারাপার করা সম্ভব নয়। গ্রামবাসীদের তখন ছয়-সাত কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। এবার বর্ষাতেও বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির ৫০০-রও বেশি পড়ুয়া বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে নদী পারাপার করে বড়দিঘি ও মালবাজারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে যায়। কিন্তু বর্ষার সময় সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় অনেক পড়ুয়াই ঘুরপথের দূরত্বের কারণে স্কুলে যেতে চায় না। ফলে অন্যদের তুলনায় তারা পিছিয়ে পড়ে। পাশেই নেপুচাপুর চা বাগান রয়েছে। এলাকার কয়েকশো বাসিন্দা শ্রমিকের কাজ করতে সাঁকোর উপর দিয়ে নদী পারাপার করেন। এছাড়াও গ্রামের বাসিন্দাদের নিত্য প্রয়োজনে বড়দিঘি বাজার কিংবা মালবাজারে যাতায়াত করতে হয়। পাকা সেতুর সমস্যায় সবারই ভোগান্তি বাড়ছে।

- Advertisement -

গ্রামবাসী আলোক দেবঠাকুর বলেন, পাকা সেতুর জন্য দাবি জানাতে জানাতে আমরা জেরবার হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করছে না। ভোটের সময় আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট পেরোলেই সবাই আমাদের কথা ভুলে যায়। গ্রামবাসী রাজেশ ওরাওঁ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্বল সাঁকো দিয়ে আমরা কুমলাই নদী পারাপার করি। কয়েকশো স্কুল-কলেজ পড়ুয়া প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করে। প্রশাসন সব জেনেও নির্বিকার। সুধা ওরাওঁ, মৌসুমি বেগমের মতো স্কুলপড়ুয়ারা জানায়, কোনো উপায় না থাকায় নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকোই তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সাঁকোর উপর উঠলেই সেটি নড়তে থাকে। বর্ষার সময় সাঁকো ভেসে গেলে তাদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। মৌসুমি বলে, সেই সময় প্রায় ছয়-সাত কিলোমিটার ঘুরপথে আমাদের স্কুলে যেতে হয়। তবে এই দূরত্বের কারণে অনেক সময় স্কুলে যাওয়াও সম্ভব হয় না। পড়াশোনায় ক্ষতি হয়। এখানে পাকা সেতুর খুবই প্রয়োজন।