রাজ্যে বিরল, দুই দিদির পর এবার ডাক্তার হবে ভাইও

4425

সুভাষচন্দ্র বসু, বেলাকোবা : একই পরিবারের তিন ভাই-বোন চিকিৎসক হয়ে মানবসেবার স্বপ্নে মশগুল। বড়জনের ইন্টার্নশিপ চলছে, মেজোজনের ডাক্তারি পড়া চলছে আর ছোটটি সবে সবে ডাক্তারিতে সুযোগ পেয়েছেন। এমন উদাহরণ উত্তরবঙ্গে তো বটেই, সম্ভবত রাজ্যেও বিরল। ত্রয়ীকে ঘিরে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবার স্টেশন কলোনির বাসিন্দারা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।

প্রদীপকুমার রায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ইএমই বিভাগে কাজ করতেন। স্ত্রী বীণাদেবী ছিলেন পেশায় নার্স। প্রদীপবাবুর দেশজুড়ে ছুটে বেড়ানোর চাকরি। তিন ছেলেমেয়েকে বড় করে তুলতে বীণাদেবী চাকরি ছেড়ে পুরোপুরিভাবে সংসারে মন দেন। বড় মেয়ে সুস্মিতা জম্মু থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর ২০১৫ সালে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পান। মেজো পল্লবী রায়ও জম্মু থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ২০১৭ সালে তিনি  কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালে ডাক্তারি পড়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। দুই দিদির আদরের ভাই শুভদীপ ২০১৮ সালে আর্মি স্কুল সুকনা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এ বছর সর্বভারতীয় নিট-এ বসে তিনি বড়দির কলেজেই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। সর্বভারতীয় ও রাজ্য জেনারেল ক্যাটিগোরিতে তাঁর স্থান যথাক্রমে ৬২,৫৫৫ এবং ৩,৫৬১। সর্বভারতীয় ও রাজ্য এসসি ক্যাটিগোরিতে তাঁর স্থান ২,০২৫ এবং ১৫৭। যাঁরা স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যে শুভদীপ ভবিষ্যতে একজন সফল নিউরো সার্জন হতে চান। তিন ভাইবোনের মধ্যে মানবসেবার সৃজন। উচ্ছ্বসিত বেলাকোবা। এলাকার শিক্ষাবিদ দেবাশিস ঘোষের কথায়, একই অঞ্চলের তিন ভাই-বোনের ডাক্তারির মাধ্যমে এভাবে মানবসেবায় নামার ঘটনা দৃষ্টান্তমূলক।

- Advertisement -