পরীক্ষার ২ বছর পরেও কর্মী নিয়োগ হয়নি জলপাইগুড়ি পুরসভায়

235

জলপাইগুড়ি :  দুই বছর পার হয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি পুরসভায় কর্মী নিয়োগের পরীক্ষার ফলাফল এখনও ঘোষিত হয়নি। এর জেরে শহরের পাশাপাশি বহিরাগত কর্মপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ৫২টি পদে কর্মী নিয়োগে স্রেফ লোকদেখানো পরীক্ষা নেওযা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, পরীক্ষা নেওয়া সত্ত্বেও কর্মী নিয়োগ না করায় পুর পরিষেবা নিয়ে সমস্যা বাড়ছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে তাঁরাও পুরসভার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। আসন্ন পুর নির্বাচনের আগে বিরোধীরা একে রাজনৈতিক ইশ্যু করেছে। যথা সময়ে সমস্ত মিটে যাবে বলে পুর কর্তপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।

সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি পুরসভার ক্লার্ক, মজদুর, হিসাবরক্ষক, স্যানিটারি ইনস্পেকটর সহ প্রায় ৫২টি শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের জন্য ২০১৪ সালে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালে একটি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। যাঁরা ওই পরীক্ষায় পাশ করেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর দুই বছর পার হয়ে গেলেও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এই পদগুলির জন্য জলপাইগুড়ি শহরের পাশাপাশি বহিরাগতদের অনেকেই পরীক্ষায় বসেছিলেন। চাকরি না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

- Advertisement -

শহরের বাসিন্দা পরীক্ষার্থী ভোলা রাউতের বক্তব্য, আমি ওই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এতে আমি হতাশ। পরীক্ষা নেওয়ার পরও ফল প্রকাশ না করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য যে বয়স চাওযা হয়েছিল, পরীক্ষার্থীদের অনেকেরই বয়স সেই তুলনায় এই দুই বছরে বেড়ে গিয়েছে। ফলে ফলাফল প্রকাশিত হলে তাঁরা আদৌ চাকরি পাবেন কি না তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ধন্দ বাড়ছে। অন্যদিকে, এ নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। শহরের বাসিন্দা প্রদীপ্তকুমার দাস বলেন, পুরসভার বিভিন্ন বিভাগে কর্মীসংখ্যা কম। য়ে কারণে পুরসভা কর্মী নিয়োগের জন্য একটি পরীক্ষা নেয়। কিন্তু তার কী ফলাফল হল জানি না। এদিকে, পুরসভায় কর্মীসংকটের জেরে আমাদেরই ভুগতে হচ্ছে। সাফাই বিভাগে কর্মী কম থাকার কারণে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। শহরের বাসিন্দা প্রলয় ভট্টাচার্য বলেন, জলপাইগুড়ি পুরসভার ১৫০ বছর পূরণ হয়েছে। এই সময়ে এখানে বাসিন্দাদের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু ২৫টি ওয়ার্ডে আনুপাতিক হারে সাফাইকর্মীরা কম সংখ্যায় রয়েছেন। সমস্যা মেটাতে পুরসভাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরের বাসিন্দা সুদীপ মজুমদার বলেন, নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে পুরসভার দ্রুত শূন্য সমস্ত পদে কর্মী নিয়োগ করতে হবে। পরীক্ষা নিয়ে কেন এভাবে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না তা আমাদের কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না।

বাসিন্দাদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে পুরনির্বাচনের আগে বিরোধীরা এই বিষয়টিকে পুরভোটের ইশ্যু করতে তৎপর হয়েছে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অলক চক্রবর্তী বলেন, পুরসভার কর্মী নিয়োগের পরীক্ষার এতগুলি বছর পরও যখন ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি তার মানে বুঝতে হবে পিছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। ভেতরে ভেতরে নিয়োগ হয়েছে কি না সেটাও খোঁজ নেওয়া উচিত। সিপিএম কাউন্সিলার প্রদীপ দে বলেন, লিখিত পরীক্ষায় কারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তার একটি তালিকা প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও পুরসভা তা প্রকাশ করেনি। বদলে লিখিত পরীক্ষায় যাঁরা পাশ করেন তাঁদের বাড়িতে বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, ভোটে সুবিধা পেতেই সময়মতো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এর আড়ালে বড়সড়ো অনিয়ম আছে। কংগ্রেস কাউন্সিলার অম্লান মুন্সি বলেন, যে শূন্য পদগুলিতে কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে তার একটিও নতুন পদ নয়। সুতরাং এই পদের জন্য অর্থ দপ্তর থেকে অনুমোদন আসতে এত সময় লাগার কথা নয়। আসলে অনুমোদনের দোহাই দিয়ে বেআইনিভাবে এই পদগুলিতে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টিকে আমরা নির্বাচনি ইশ্যু করব। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ সন্দীপ মাহাতো বলেন, সমস্ত কাগজপত্র কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। যথা সময়ে অনুমোদন হয়ে যাবে। সন্দীপবাবু একথা বললেও ওই পরীক্ষায় নিয়োগ সংক্রান্ত অনুমোদন আসতে কেন এতটা সময় লাগছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।