দুটি শ্মশান ঘুরে অবশেষে সরকারি বনাঞ্চলে শেষকৃত্য সিআরপিএফ জওয়ানের

668

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: এ যেন মরেও শান্তি নেই! গ্রামবাসীদের একাংশের প্রবল বাধায় সিআরপিএফ জওয়ানের মৃতদেহ রাস্তার ওপরে আটকে রইল প্রায় ঘন্টা ছয়েক। মঙ্গলবার বিকেল চারটা থেকে রাত দশটা অবধি মৃতদেহ রেখে বসে থাকলেন পরিবারের লোকজন। তারপরও দেহ নিয়ে শ্মশান অবধি পৌঁছতেই পারলেন না মৃতের পরিবারের লোকজনেরা। অবশেষে উপায় না দেখে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে রাত দশটা নাগাদ মৃত জওয়ানের দেহ দাহ করতে বাধ্য হলেন তাঁরা। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও বাসিন্দারা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এলাকার কোনও শ্মশানেই দেহ দাহ করতে দেওয়া হয়নি। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে এই ঘটনা নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার রাতে কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সিআরপিএফ জওয়ানের নাম রাজেন রায় লস্কর (৫৭)। তাঁর বাড়ি ছিল কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে। মঙ্গলবার বিকাল চারটা নাগাদ মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছায়। তারপর এলাকার সুটুঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত শ্মশানঘাটে দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন মৃতের বাড়ির লোকজনেরা। কিন্তু শ্মশানে পৌঁছানোর পথ বাঁশ দিয়ে বেঁধে আগে থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। সেখানে বাধা পেয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে শিউলি নদীর শ্মশানঘাটে দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানেও পৌঁছানোর আগেই বাধা দেওয়া তাঁদের। একইভাবে পথে বাঁশের ব্যারিকেড করে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

উপায়ন্তর না দেখে,এলাকায় অবস্থিত নিজেদের চা বাগানের মধ্যেই কোনও স্থানে দেহ সৎকারের জন্য উদ্যোগী হন মৃতের পরিজনেরা। কিন্তু তাতেও প্রবল আপত্তি তোলেন গ্রামবাসীদের একাংশ। এই নিয়ে মৃতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের গোলমাল বাঁধে। পরে ঘটনাস্থলে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপেও বাসিন্দারা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন। করোনা সংক্রমণের ভয়েই তাঁরা না কি এলাকার কোথাও দেহ দাহ করতে দেবেন না, একথা পুলিশকে জানিয়েছেন। অথচ, জেলা প্রশাসন আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনওভাবেই করোনা সংক্রমিত ছিলেন না। তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। তাই কোনওভাবেই মৃতদেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনাই নেই। তিনি অন্য কারনে মারা গিয়েছেন। সেজন্যই মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তা মানতে নারাজ এলাকার কিছু বাসিন্দা। অবশেষে দুটি শ্মশানঘাট ঘুরে পুলিশি পাহারায় জামালদহ অরণ্যের ভিতরে রাতে দেহ সৎকার করা হয়। সেখানে মৃতের পরিবার-পরিজন ছাড়া এলাকার কোনও মানুষ উপস্থিত ছিলেন না। চূড়ান্ত সচেতনতার অভাবেই এলাকার কিছু মানুষ এধরনের অমানবিক আচরণ করছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। জামালদহবাসীদের আচরণে হতবাক মৃতের বাড়ির লোকজনেরা।