বন্ধ্যাত্বের অস্ত্রোপচার করতে এসে ৩ গৃহবধূর করোনা ধরা পড়ল

215

বর্ধমান: তিন গৃহবধূ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ধ্যাত্বকরণের আগেই তাঁদের লালার নমুনা নেওয়া কোভিড পরীক্ষা করা হয়। সেই লালা নমুনার রিপোর্ট কোভিড পজিটিভ আসল। যদিও বন্ধ্যাত্বকরণের অস্ত্রোপচার সেরে বাড়ি ফেরার পর করোনার রিপোর্ট পৌঁছায়। ওই তিন গৃহবধূ সহ মোট ১২ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বন্ধের মুখে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

কারণ, রবিবার আক্রান্তের রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসতেই তড়িঘড়ি ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী সহ মোট ৮ জনকে পাঠানো হয় আইসোলেশনে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে খবর, ওই তিন গৃহ বধূর অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করে শনিবারে বাড়ি পাঠানো হয়। এদিকে রবিবার দুপুরের পরে রিপোর্ট আসতেই রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা।

- Advertisement -

জামালপুরের বিএমওএইচ চিকিৎসক আনন্দমোহন গড়াই জানিয়েছেন, গত বুধবার ব্লকের ৮ পরিযায়ী শ্রমিক ও এক শিশু সহ ৯ জনের কোভিড পরীক্ষার জন্য লালার সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ওইদিনই লালার সংগ্রহ করা হয় বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া তিন বধূর। পরীক্ষার জন্য ওই দিনই মোট ১২ জনের লালার নমুনা পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজে।

বিএমওএইচ বলেন, হিসেব মত পরদিনই রিপোর্ট চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু রিপোর্ট আসতে কোন কারণে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তারই মধ্যে গত শুক্রবার বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা তিন বধূর অস্ত্রোপচারকরা হয়। হাসপাতাল থেকে শনিবার তাদের ছুটিও দিয়ে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার হওয়া ওইতিন রুগী সহ ১২ জনের এদিন করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার রিপোর্ট আসতেই হাসপাতালের সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

বিএমওইচ আরও জানান, হাসপাতালে পরিষেবা চালু রাখার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী মিলিয়ে ২০ জন রয়েছেন। তারমধ্যে করোনা আক্রান্তের সংস্পর্সে আসা একজন চিকিসক সহ আটজনকে রিপোর্ট আসার পরপরই আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। বাকি হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীকে নিয়ে কীভাবে হাসপাতালে পরিষেবা চালু রাখা যাবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, আট জনকে আইসোলেশনে পাঠানোর কারণে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে এমন বিষয়ে বিএমওএইচ এখনও কিছু জানান নি। বিএমওএইচ কিছু জানালে, জেলা প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের জানানো হবে। হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।