মুম্বই থেকে ফিরে করোনা আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানের দুই

711

বর্ধমান ও আসানসোল: ফের দু’জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমানে। জেলার এই নতুন দুই আক্রান্ত সম্পর্কে মা ও ছেলে। তাঁরা আউশগ্রাম-২ ব্লকের এড়াল পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। দু‘জনকেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে। এলাকার দুজনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানাজানি হতেই উদ্বিগ্ন আউশগ্রামের বাসিন্দারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রামের বছর ৪৬ বছর বয়সী ওই মহিলা ক্যানসারে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য ছেলের সঙ্গে ওই মহিলা গত ১৩ মার্চ মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তার মধ্যেই দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ায় অসুস্থ মাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান ছেলে। যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় আউশগ্রামের বাড়িতে ফেরার জন্য তাঁরা বাধ্য হয়ে মুম্বইয়ের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। কিছুদিন আগে সেই অ্যাম্বুলেন্সে চেপে তাঁরা মুম্বই থেকে রওনা দেন।

- Advertisement -

গত ১১ মে পশ্চিম বর্ধমানের ডুবুরডিহি চেকপোস্টে পৌঁছায় আ্যাম্বুলেন্সটি। পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সটিকে আউশগ্রামে যেতে না দিয়ে সেখানেই দাঁড় করায়। এরপর থার্মাল টেস্টিংয়ে করোনা উপসর্গের লক্ষণ ধরা পড়ায় ওই দিনই মহিলা ও তাঁর ছেলেকে আসানসোলের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাঁদের দু’জনেরই লালা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য।

মা ও ছেলে দু’জনেরই লালা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। বৃহস্পতিবার রাতে রিপোর্ট হাতে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। আক্রান্ত দু‘জনকেই চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও সৃঞ্জনী শেখর জানিয়েছেন, ক্যানসার আক্রান্ত মাকে মুম্বইয়ে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিল ছেলে। সেখান থেকে ফেরার সময়ে পশ্চিম বর্ধমানে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সংক্রমণ সেখানেই ধরা পড়েছে। তাঁরা দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ জন্য পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে সাবধানতা নেবার মত কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এদিকে, মা ও ছেলের করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই জেলা হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মহিলার ছেলে গত তিনদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়িয়েছে। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে জিনিসও কিনেছিল। শুক্রবার সকালে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ হাসপাতালের কাছের রাস্তার বেশ কয়েকটি দোকানকে বন্ধ করিয়ে দেয়। অন্যদিকে, এই মুহুর্তে আসানসোল জেলা হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে এক প্রসূতি ও তার সদ্যজাত ভর্তি রয়েছে। তাদের লালা পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রসূতি গত তিনদিন ধরে জেলা হাসপাতালের গাইনিক ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। বুধবার তিনি সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তার কিছু শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। তখনই তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো গাইনিক ওয়ার্ড থেকে হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

একইসঙ্গে, গত ২৪ ঘন্টায় আসানসোল জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগ থেকে মোট ৬ জনকে আসানসোলের সেনরেল রোডের বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ভর্তি হওয়া ৪ জন অন্য জেলার বাসিন্দা। শুক্রবার সকাল ও বিকালে ভর্তি এক বধূ সহ ২ জন আসানসোলের বাসিন্দা বলে জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও, আসানসোলের সেনরেল রোডের বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশান ওয়ার্ডে মৃত্যু হওয়া এক রোগীর লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে আসেনি। বার্ণপুরের বাসিন্দা ঐ রোগীর বুধবার রাতে মৃত্যু হয়। বিভিন্ন উপসর্গ থাকায় তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিলো। ওই রোগীর দেহ আপাতত জেলা হাসপাতালের মর্গেই রাখা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মতো সবকিছু করা হচ্ছে।