ভিনরাজ্যে শ্রমিক পাঠিয়ে ফায়দা লুটছেন এজেন্টরা

1181
প্রতীকী ছবি।

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি: করোনা আবহে ভিনরাজ্যে শ্রমিক সরবরাহ করে ফায়দা লুটছে জেলার লেবার সাপ্লায়ার ও কনট্রাক্টররা। বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হলেও অতিরিক্ত বেতন পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। অভিযোগ, তাঁদের বেতন থেকে বাসভাড়াও কেটে নেওয়া হচ্ছে। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ মালদা থেকে ভিনরাজ্যে যাওয়া হাজার হাজার শ্রমিকের পরিবার।  শ্রমিকদের মজুরির টাকা নয়ছয় করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলিও।

উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ থেকে মালদা জেলার শ্রমিকদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে য়াওয়া হচ্ছে। বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কারোর লালা পরীক্ষা না করেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে উড়িয়ে নিয়ে য়াওয়া হচ্ছে এই শ্রমিকদের। একাধিক কোম্পানি আবার বড় বাস রিজার্ভ করেও মালদা থেকে শ্রমিকদের সরাসরি নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে। কালিয়াচকের তিনটি ব্লক থেকেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক এর মধ্যে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। কোম্পানিগুলি শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদারদের মাধ্যমেই শ্রমিকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে য়াচ্ছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ ট্রেড ইউনিয়নের মালদা জেলা সম্পাদক ইব্রাহিম শেখ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট শ্রমিক আইন নেই। তাই এই জেলার শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে শোষিত হয়। শ্রমিকদের টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে লেবার সাপ্লায়ার ও কমিশন এজেন্টরা। বাস ও বিমানে করে ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হলেও এখন বেশিরভাগ শ্রমিক ৬০ দিনের প্যাকেজে কাজে যাচ্ছে। মজুরি মেটানোর সময় তাদের মজুরি থেকে পরিবহণ খরচ কেটে নেওয়া হবে। বিভিন্ন কোম্পানি শ্রমিকদের অতিরিক্ত টাকা দিলেও সেই টাকা কমিশন এজেন্ট ও সাপ্লায়াররা নিয়ে নেবে। শ্রমিকরা তা পাবে না। একই অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের। সংগঠনের জেলা সম্পাদক সামসুদ্দিন শেখ বলেন, কমিশন এজেন্টরা অর্থের লোভে জেলার শ্রমিকদের কোনওরকম লালা পরীক্ষা না করেই ভিনরাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট আইন অনুযায়ী, এই কমিশন এজেন্টদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। আমরা বিভিন্ন শ্রমিকের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, তাঁদের বরাদ্দকৃত মজুরির ৯০ শতাংশ সাপ্লায়ার ও কমিশন এজেন্টরা নিয়ে নিচ্ছে। এই জেলার শ্রমিকদের কার্যত শোষণ করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, চার  মাস আগে লকডাউন শুরুর সময় শ্রমিকরা যখন বিপদে পড়েছিলেন, তখন তাঁরা সরকারকে গালমন্দ করেছিলেন। সরকার সব সময় তাঁদের পাশেই ছিল, থাকবে এবং আছে। কিন্তু তাঁরা সরকারের নির্দেশিকা অমান্য করে গোপনে আবার ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছেন। ফলে গোটা দেশেই করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারকে বেগ পেতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলও। তিনি বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না। শুনেছি, কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে বেশ কিছু শ্রমিক ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়া হচ্ছে। চাইলেই তাঁরা কাজ পাবেন। পাশাপাশি, তাঁদের র‌্যাশনের কুপনও দেওয়া হচ্ছে।