ভিটেমাটি গিলে নিচ্ছে আগ্রাসী গঙ্গা

67

অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। কোথাও গঙ্গার পাড়ে বোল্ডার ফেলা হচ্ছে, কোথাও বাঁধ সংস্কার করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। কিন্তু খাতাকলমে কোটি কোটি টাকার এসব কাজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে অনেক জায়গাতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আগ্রাসী গঙ্গা কখনও মালদার বৈষ্ণবনগরে ভিটেমাটি গিলে খাচ্ছে, কখনও মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা,সামশেরগঞ্জে মাথার ছাদ কেড়ে নিচ্ছে শয়ে শয়ে গ্রামবাসীর। আর এনিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর চলছেই। ভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করছে না বলে  অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। সম্প্রতি ফরাক্কার কুলিদিয়ারায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানেই তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গঙ্গার ভাঙন আটকাতে কাজ করে চলেছে। সাবিনা ইয়াসমিনের বক্তব্য, এবার বর্ষা শেষ হলে পাকাপাকিভাবে পোড়াপাড়া ও কুলিদিয়ারের প্রায় এক কিলোমিটার ভাঙন রোধের কাজ করবে রাজ্য সরকার। এর জন্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

- Advertisement -

মালদা ও মুর্শিদাবাদের ভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গঙ্গাকে আটকানো এত সোজা কথা নয়। একদিকে চর পড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জলের স্রোত এসে জোরে ধাক্কা মারছে। কখনো  আবার  বিপরীতমুখী ভাঙন হচ্ছে। এত সমস্যার মধ্যেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভাঙন রোধ নিয়ে সবসময় ভেবে চলেছেন। তাঁর নির্দেশেই আমার এখানে আসা।

ভাঙন প্রতিরোধ নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কেন্দ্র সরকারকে একহাত নেন। তিনি বলেন, হোসেনপুরে যে জায়গায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ করার কথা ওই জায়গার কাজ রাজ্য সরকারকে করতে হচ্ছে। ফলে সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে সেই কাজ কতটা সফল হবে, তা বলা যাচ্ছে না। কেন্দ্র এখানে হাত তুলে বসে রয়েছে। তারা সহযোগিতাও করছে না, আবার প্রয়োজনীয় অর্থও দিচ্ছে না।

সাবিনা ইয়াসমিন আরও বলেন, ইতিমধ্যে বেশকিছু জায়গায় রাজ্য সরকারের তরফে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। যেখানে অবস্থা খুবই খারাপ এবং যে কোনও সময় জল ঢুকে ঘরবাড়ি পড়ে যেতে পারে, সেখানে নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলিও জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে। এর জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে জরুরিভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের জন্য কিছু পলিব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পাকাপাকিভাবে আরআইডিএফ স্কিমে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এলাকা পরিদর্শনের পর ভাঙনের কাজ করার দাবিতে পুরো টিম সহ ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর আজাগেসনের কাছে যান মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় গঙ্গার ভাঙন আটকাতে হবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।