কৃষি বিলের সমর্থন এবং বিরোধীতায় আন্দোলনে হাতিয়ার গোরু ও লাঙল

486

বর্ধমান, ১ অক্টোবরঃ গোরু, লাঙল ও মোষ এখন কৃষি বিলের প্রতিবাদকারী ও সমর্থনকারীদের আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কৃষি বিলের সমর্থনে গোরুর গাড়ি ও ধানের চারা নিয়ে বৃহস্পতিবার বর্ধমান শহরের রাজপথে মিছিল করল বিজেপি। ঠিক সেই সময়েই জেলার রায়নার ছোট বৈনানের মোমরেজ মোড়ে কৃষিবিলের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস গোরু, লাঙল ও মোষ নিয়ে পথ আবরোধ করল। এদিনই আবার জামালপুরে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আধুনিকতার যুগে ব্রাত্য হয়ে পড়া গোরু, লাঙলই এখন হঠাৎ করে কৃষি বিলের সমর্থন ও প্রতিবাদ আন্দোলনের হাতিয়ার হয়ে উঠায় উৎফুল্ল কৃষকরাও।

কৃষি বিলের সমর্থন ও বিরোধীতা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষই পূর্ব বর্ধমান জেলায় পথে নেমে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। জেলার প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বসে নেই সিপিএম নেতা কর্মীরাও। তাঁদের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভাও কৃষি বিলের বিরোধীতায় আন্দোলন শুরু করেছে। এদিন একই সময়ে বর্ধমান আরামবাগ রোডে রায়নার মোমরেজ মোড়ে গোরু, লাঙল,মোষ ও কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে তৃণমূল পথ অবরোধ করে। এই পথ অবরোধ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন রায়না ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি জুলফিকার আলি খান। একই সময়ে গোরুর গাড়ি ও ধানের চারা নিয়ে কৃষি বিলের সমর্থনে শহর বর্ধমানের শুলিপুকুর থেকে বিসি রোড হয়ে কার্জন গেট পর্যন্ত মিছিল করেছে বিজেপি। এই বিষয়ে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কৃষি বিল নিয়ে বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃষি বিলের সার্থকতার বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতেই বিজেপি পথে নেমেছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এদিন কৃষি বিলের বিরোধীতায়
জামালপুরে তৃণমূলের বড় প্রতিবাদ মিছিল হয়। মেমারি তারকেশ্বর রোডে হালাড়া মোড় থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান হাজার হাজার মানুষ। জামালপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছে মিছিল শেষ হয়। প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ও কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক। মেহেমুদ খান জানিয়েছেন, এই কৃষি বিল কার্যকর হলে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন। আর ফায়দা লুটবে বহৎ পুঁজির বহুজাতিক সংস্থাগুলি। সেই বাস্তবটা মানুষের কাছে তুলে ধরতেই তাঁরা দলনেত্রীর নির্দেশে পথে নেমে আন্দোলন শুরু করছেন।