ঘুমোচ্ছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সের দেওয়া ভুল ইনজেকশনে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ

204

ফাঁসিদেওয়া, ৬ সেপ্টেম্বরঃ রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখালেন। রবিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে ব্যপক উত্তেজনা ছড়ায়৷ মৃত লক্ষীরাম হাঁসদা (৩২) বিধাননগর পাইক পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীকে নিয়ে আসা হয়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘুমোচ্ছিলেন। কর্তব্যরত নার্স একটি ইনজেকশন দেন। রোগীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। এই ঘটনার পরই পরিবারের সদস্য এবং গ্রামবাসীরা মিলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছান৷ প্রথমে চিকিৎসকের খোঁজ করেন৷ পরবর্তীতে, রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের বিরাট পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফাঁসিদেওয়ার বিএমওএইচ অরুণাভ দাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে। তবে, প্রথমবার রোগী অসুস্থ থাকার কয়েকঘণ্টা পর চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল। আগে তাঁকে আনা হলে, তিনি হয়ত প্রাণে বেঁচে যেতে পারতেন।

মৃতের পরিবার সূত্রের খবর, শনিবার রাতে থেকেই লক্ষীরাম বাবুর বুকে এবং পেট ব্যাথা অনুভব হচ্ছিল। এরপর এদিন পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে বিধানননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক সে সময় ছিলেন না। নার্স রোগের উপসর্গ বুঝে, রোগীকে একটি ইনজেকশন দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি বাড়ি চলে যান। পরে, পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। এদিকে, চিকিৎসকের অবর্তমানে নার্স কীভাবে ইনজেকশন দিলেন, তা নিয়ে ব্যক্তির পরিবারের সকলে প্রশ্ন তুলেছেন। অপরদিকে, এদিনের হাসপাতালে ব্যপক উত্তেজনার জেরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরাও বিপাকে পড়েছিলেন। আরও জানা গিয়েছে, লক্ষীরাম বাবু চলতি মাসের ৩ তারিখ কোভিড টিকা নিয়েছিলন। কিন্তু, চিকিৎসক ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে কর্তব্যরত নার্স কীভাবে টিকা দিলেন, আর কেনই বা চিকিৎসক রোগীকে দেখলেন না, তা নিয়ে রোগীর পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। পরে, অবশ্য বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্র মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়।

- Advertisement -

ওই ব্যক্তির মাসি ছবি সোরেন বলেন, নার্স ভুল ইনজেকশন দিয়েছেন। সে কারণেই লক্ষীরামের মৃত্যু হয়েছে। একজন নার্স কীভাবে রোগীর জীবন নিয়ে খেলতে পারেন, এটা আমি জানতে চাই। চিকিৎসক আমাদের রোগীকে পরীক্ষাও করেননি। চিকিৎসায় গাফিলতির জন্যই আমার ভাগ্নের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নিকটাত্মীয় কার্তিক কুজুর বলেন, নার্স না বুঝেই ইনজেকশন দিয়েছেন। বাড়ি যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার জামাইবাবু মারা যান৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই মৃত্যুর জবাব দিতে হবে। কর্তব্যরত চিকিৎসক দুর্লভ রায় বলেন, রোগীর চিকিৎসা এখানে সম্ভব ছিল না। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর, তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেছিলাম। ইসিজি এবং এক্সরে করাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু, ওই ব্যক্তি বাড়ি চলে যান৷ এতে আমাদের কোনও দোষ নেই৷ এরপরও যদি বিশ্বাস না হয়, তাহলে ময়নাতদন্ত করা হোক, তাহলেই সব প্রমাণ হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। এদিন এই বিক্ষোভের সময় হাসপাতালে স্ত্রী নাসিমা খাতুনের চিকিৎসা করাতে এসে রহমত আলি বলেন, আধঘণ্টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। চিকিৎসক ভয়ে আসছেন না৷ আমার মতো অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।