মোরাঘাট রেঞ্জে ফের তালা, আন্দোলন অব্যাহত বনবস্তিবাসীদের

70

গয়েরকাটা, ১১ জানুয়ারিঃ বনসহায়ক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বনবস্তিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও, তা না করে শহরের বাসিন্দাদের এই পদে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠল। এরই প্রতিবাদে দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলনে নেমেছেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের বনবস্তিবাসীরা। আন্দোলনের জেরে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন ও বনদপ্তর তাঁদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। অথচ, পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তুলে সোমবার ফের জলপাইগুড়ি বনবিভাগের মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসে এসে দপ্তরের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলেন আন্দোলনকারী বনবস্তিবাসীরা। মোরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার পাল বলেন, আজকের পুরো ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসের পাশাপাশি খুট্টিমারি বিট অফিস এবং খুট্টিমারির বন বাংলোতেও এদিন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিন ওই দুই অফিসের সমস্ত রকম কাজকর্ম বন্ধ ছিল। এদিকে, বার বার আন্দোলনকারীদের সন্মুখীন হয়ে নীচুতলার বনকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এরপরও প্রশাসন কেন কোনও রকমের সদর্থক ভূমিকা নিচ্ছেন না, এই প্রশ্ন এখন দপ্তরের মধ্যেই ঘুরতে শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্মী বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে যখন তখন বনবস্তিবাসীরা এসে দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন এবং আমাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনের মুখে পড়ে বার বার আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এধরনের ঘটনা বার বার ঘটায় যেমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি, ঠিক তেমনই দপ্তর বন্ধ থাকায় বনাঞ্চলে টহলদারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

- Advertisement -

অন্যদিকে, মোরাঘাট রেঞ্জের অন্তর্গত সাতটি বনবস্তির বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত যৌথ গ্রাম সভা কমিটির পক্ষে রবি রাভা বলেন, বনাধিকার আইন ২০০৬ কে অমান্য করে বনাধিকারিকরা জেলা জুড়ে বনসহায়ক পদে বাইরের বাসিন্দাদের নিয়োগ করে চলেছে। এই বিষয়ে দুই বার আমরা ডিএফও সাহেব ও এক বার জেলাশাসককে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। জেলাশাসক ২ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। অথচ, আমাদের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। তাই, বাধ্য হয়েই এদিন আমরা রেঞ্জ অফিস সহ অন্যান্য অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। যতদিন প্রশাসন আমাদের দাবির প্রতি আমল দেবেন না, ততদিন একটি অফিসও আমরা খুলতে দেব না। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।