পার্শ্বশিক্ষকদের নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার, তোলপাড় রাজপথ

117

কলকাতা: পার্শ্বশিক্ষকদের নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্দুমার কলকাতার রাজপথ। শুক্রবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে নবান্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করবার জন্য দলে দলে রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকেরা মধ্য কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে এসে জড়ো হন। অপরদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও একদিকে যেমন সেখানে বাহিনী মোতায়েন করা হয় তেমনি নিয়ে আসা হয়েছিল দুটি জলকামানের গাড়ি। এরপরই মিছিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে পৌছাঁতেই পুলিশ আটকে দেয়। আর তাতেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, হিন্দ সিনেমার কাছে গার্ডরেল ভাঙেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এতেই উত্তেজনা আরও তুঙ্গে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভকারীদের। নামানো হয় র‍্যাফ, কমব্যাট ফোর্স। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২৪জন আন্দোলনকারী শিক্ষককে আটক করে পুলিশ।

সমকাজে সমবেতন ও চাকুরী স্থায়ীকরণের দাবি সহ কয়েকটি দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে বিগত ৫০ দিন যাবত রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকেরা বিধাননগরের বিকাশ ভবনে অবস্থিত শিক্ষা দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলুন। এদিন সেইসব দাবি তুলে কলেজ স্ট্রিট থেকে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন ছিল। দুপুর ১২টায় কর্মসূচির শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কিছু পরেই শুরু হয় শিক্ষকদের নবান্ন অভিযান। শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারেই মিছিল আটকে দেওয়া হয় শিক্ষকদের।

- Advertisement -

দীর্ঘক্ষণ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের পর বেলা ২টো নাগাদ হিন্দ সিনেমার সামনের ব্যারিকেড সরিয়ে বিক্ষোভকারীরা জোর করে এগোনোর চেষ্টা করলে ধুন্ধুমার বাধে। বিক্ষোভকারী শিক্ষকদের উপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ‘শান্তিপূর্ণ অবস্থান সত্ত্বেও পুলিশ তাদের মেরেছে, টেনে হিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তুলেছে।’ পুলিশ-বিক্ষোভকারী ধস্তাধ্বস্তিতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। জখমও হয়েছেন অনেকে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনুমতি সত্ত্বেও তাদের আটকানো হয়। তাদের দাবি, শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন জমা দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কপালে জুটল পুলিশের লাঠি। অন্যদিকে, পুলিশের যুক্তি বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের জন্য ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা থাকায় আন্দোলনকারীদের এগোতে দেওয়া সম্ভব হয়নি।