রোগী মৃত্যুর ঘটনায় বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর

151

আসানসোল, ২৭ অগাস্টঃ ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আসানসোলের সেনরেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়াল। মৃত সবেরা খাতুন (৫৫) আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্ণপুরের ধরমপুরের বাসিন্দা ছিলেন। রোগীর পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বেসরকারি হাসপাতালের এক সিকিউরিটি গার্ড ও এক সিকিউরিটি সুপারভাইজার সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে শারীরিকভাবে নিগ্রহ ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও, রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধর করার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

রোগীর পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রোগীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এদিন আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের তরফে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁরা রোগীর পরিবারের দিকেই গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। হাসপাতালের তরফেও পুরো ঘটনা নিয়ে আসানসোল উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সবেরা খাতুন দিন ১৫ আগে বাড়িতে মুখ ধোওয়ার সময় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু, তার শারীরিক অবস্থা ঠিক না হওয়ায়, তাঁকে বৃহস্পতিবার আসানসোলের সেনরেল রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

- Advertisement -

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মহিলাকে পরীক্ষা করে বলেন, তাঁর মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। এরজন্য অস্ত্রোপচার করতে হবে। এরপর বাড়ির লোকেরা দুপুরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের তরফে রোগীর পরিবারকে ৩ লক্ষ টাকার চিকিৎসার প্যাকেজ বলা হয়। রোগীর পরিবারের সদস্যরা ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। রোগীর স্বামী মহম্মদ ইরা বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলাম৷ স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বাড়ি আসি। তখন হাসপাতালের তরফে আমাকে কিছু বলা হয়নি। আচমকাই রাত সাড়ে ১০টার পরে, আমাকে ফোন করে বলা হয়, রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। তাঁর অস্ত্রপচার করা হচ্ছে। আপনারা বাকি টাকা হাসপাতালে এসে জমা দিয়ে যান। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এরমধ্যে রোগী কি করে মারা গেল? তিনি হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধর করার কথা অস্বীকার করেন।