রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনা রোগীর আত্মীয়দের বিক্ষোভ

64

রামপুরহাট, ৪ মেঃ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীর কাছে পরিবারের একজন সদস্যকে থাকতে দিতে হবে। এই দাবিতে মঙ্গলবার ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্টকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন রোগীর আত্মীয়রা। ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া হয়েছে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের কাছেও। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে রোগীর আত্মীয়রা বিক্ষোভ বন্ধ করেন।

রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা রোগীদের জন্য ১৬০ শয্যার বিভাগ খোলা হয়েছে। তার মধ্যে ১২টি সিসিইউ। রয়েছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন। কিন্তু, অভিযোগ উঠছে করোনা রোগীদের পরিষেবা দিতে এগিয়ে আসছেন না চিকিৎসক থেকে নার্স। অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলেও, কারও নজর থাকছে না। এমনকি খাওয়া থেকে ধোয়া সব নিজেদের করতে হচ্ছে রোগীদের।

- Advertisement -

এমন অভিযোগ তুলে হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্টকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর আত্মীয়রা। তাঁদের দাবি, প্রতিটি রোগীর কাছে নিয়ম মেনে একজন করে থাকতে দিতে হবে। ৮০ বছর বয়সি এক করোনা রোগীর আত্মীয় বলেন, তাঁর বাবা ঠিক মতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। কিন্তু, খাবার সরবরাহকারীরা করোনা বিভাগের দরজার সামনে খাবার দিয়ে চলে যাচ্ছেন। তাহলে বাবা খাবার খাবেন কীভাবে? তাহলে তো চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে না খেয়ে, তাঁর বাবা মারা যাবেন। এক মহিলা বলেন, তাঁর দাদা ভর্তি আছেন। অক্সিজেন চলছে। কিন্তু, স্বাস্থ্য কর্মীরা কেউ রোগীদের দিকে নজর দিচ্ছেন না। ফলে, রোগীর আত্মীয়রা কাছে থাকলে পরিবারের সদস্যের স্বাস্থ্যের উপর এবং অন্যান্য অসুবিধার উপর নজর দেওয়া যায়।

বিক্ষোভ চলাকালীন হাসপাতালে এসে পৌঁছান মহকুমাশাসক জগন্নাথ ভড়। তাঁকে ঘিরেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগীর আত্মীয়রা। আত্মীয়রা তাঁর কাছে কাঁদতে কাঁদতে জোর হাত করে তাঁদের আবেদন মেনে নেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন। মহকুমাশাসক বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী করোনা রোগীর কাছে কাউকে থাকতে দেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু, রোগীর আত্মীয়দের যে আবেদন জানিয়েছেন, সেটি আমি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং জেলাশাসকের কাছে পাঠাব। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।