পৌরসভার উপ-প্রশাসক পদ থেকে আইনুল হককে সরানোর দাবিতে অগ্নিগর্ভ বর্ধমান

252

বর্ধমান, ২১ অগাস্টঃ বর্ধমান পৌরসভার উপ-প্রশাসক পদে সদ্য নিযুক্ত হওয়া আইনুল হককে খুনি আখ্যা দিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আন্দোলনে নামলেন। সিপিএম-র হার্মাদ, বিজেপির দালাল, শরদিন্দু কোনার ও আমজাদের খুনি, আইনুল হক দূর হাটো এমন লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে শনিবার শহর বর্ধমানের রাজপথে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখালেন। শুধু এমন ব্যানার হাতে বিক্ষোভই নয়। দলের পতাকা ছাড়াই শহর বর্ধমানের প্রায় ৪০টি জায়গায় তৃণমূল কর্মীরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। শহরের একাধিক রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলেছে। সেই সব বিক্ষোভ, অবরোধের জেরে এদিন বিকালে ঘণ্টাখানেকের জন্য শহর বর্ধমান কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।

বাম আমলে বর্ধমান পৌরসভার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ছিলেন সিপিএম নেতা আইনুল হক। তৃণমূল কংগ্রেসের যাবতীয় আন্দোলন তখন ছিল তাঁরই বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদলের কয়েকবছর পর সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে, আইনুল হক প্রথমে বিজেপিতে নাম লেখান। পরে, বিধানসভা ভোটের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রায় ৩ বছর পর বর্ধমান পৌরসভার জন্য গঠিত হয় প্রশাসক মণ্ডলী। সেই প্রশাসক মণ্ডলীতে উপ-প্রশাসক হিসাবে আইনুল হকের নাম সামনে আসে। এরপরই গত মঙ্গলবার থেকে শহর বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে বিক্ষোভ জারি রয়েছে। আর এদিন সেই ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।

- Advertisement -

উপ-প্রশাসক পদ থেকে আইনুল হকের অপসারণের দাবিতে বিগত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে বর্ধমান পৌরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডেই। বিক্ষোভকারীরা সকলেই বর্ধমান দক্ষিনের বিধায়ক খোকন দাসের অনুগামী বলেই পরিচিত। উপ-প্রশাসক পদ থেকে আইনুল হককে সরানোর দাবিতে এদিন বিকেলে বর্ধমান পৌরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই বিক্ষোভ চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভের পাশাপাশি, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। শহরের রথতলায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে, জিটি রোডের কার্জনগেট ও পুলিশ লাইনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট মন্তব্য, ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই খুন হন বর্ধমান শহরের লক্ষীপুর নিবাসী বাম বিরোধী শিক্ষক শরদিন্দু কোনার। এছাড়াও, তৎকালীন সিপিএম নেতা আইনুল হকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য নিখোঁজ হন আমজাদ শেখ। বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা আব্দুল রব দাবি করেন, এই সব অপরাধের মূল অভিযুক্ত ছিলেন আইনুল হক। বিক্ষোভে সামিল সকলেই বলেন, আইনুল হক সিপিএমের আমলে তৃণমূল কর্মীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছে। সেই আইনুল হককে বর্ধমান পৌরসভার উপ-প্রসাসক পদ থেকে না সরানো পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।