হাথরসে তরুণীর ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ইস্পাত নগরে ক্ষোভের আঁচ

362
প্রতীকী ছবি

আসানসোল, ৪ অক্টোবরঃ উত্তরপ্রদেশেরে হাথরাসের ঘটনার সঙ্গে এবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শিল্পাঞ্চলের ইস্পাত নগরী বার্নপুরের নামও জুড়ল। জানা গিয়েছে, পরিবার বা পারিবারিক সূত্রে ইস্পাত নগরীর ঘরের মেয়ে মনীষা বাল্মিকী। গত কয়েকদিন ধরে দেশ জুড়ে ঘটনাকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। আর সেই পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু মনীষার পরিবারকে দেখেই চিনতে পারলেন বার্নপুরের মানুষ। টেলিভিশনে মনীষার মা বাবাকে দেখেই চিনতে পারলেন আইএসপি বা বার্নপুর ইস্পাত কারখানার (ইস্কো) কর্মীরাও। মৃত যুবতীর বাবা ওমপ্রকাশ বাল্মিকী একটা সময় বার্নপুরেই ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁর যৌবন কেটেছে এই ইস্পাত নগরীতে। এমনকি তার বিয়েও হয়েছিল এই বার্ণপুরে।

ওমপ্রকাশবাবুর বাবা অর্থাৎ মনীষার ঠাকুরদা বাবুলাল বাল্মিকী এই বার্নপুর ইস্পাত কারখানায় কাজ করতেন। তাই উত্তরপ্রদেশের হাথরসে বাল্মিকী পরিবারের ওপর এমন ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসেছেন সেদিনের এই বার্ণপুরের পড়শি ও পরিজনেরা। এখনও বার্নপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন হাথরসের বাল্মীকি পরিবারের সদস্যরা। কেউ মৃত যুবতীর সম্পর্কে কাকা। কেউ বাবার মামাতো ভাই। তাঁরা সকলেই চান, তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের কঠিন সাজা দেওয়া হোক। তাঁরা চান, আদালত দোষীদের বিরুদ্ধে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করুক। পাশাপাশি, তাঁরা আরও বলেন, এই রাজ্যে কিছুটা হলেও তাঁরা নিশ্চিন্তে রয়েছেন। কারণ এখানে জাতপাতের রাজনীতি হয়না।

- Advertisement -

মৃত যুবতীর ঠাকুরদা বাবুলাল বাল্মিকী বার্নপুর ইস্পাত কারখানায় সাফাই বিভাগের কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সেখানে কাজ করতেন নিমাই বাউরি। তিনি বলেন, বাবুলাল ১৯৯৯ সালে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে এখান থেকে চলে যান। প্রথমে এখানে তাঁরা থাকতেন নিউটাউনে। পরে, তারা সেখান থেকে চলে আসেন বার্নপুরের রাঙাপাড়াতে। তা।র ছেলে ওমপ্রকাশ বার্নপুর বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছিল। ছেলের বিয়ে এই বার্ণপুর থেকেই বাবুলাল দিয়েছিলেন। তিনি আরেও বলেন, ভয়ঙ্কর ঘটনা শুনে, আমরা খুব স্তম্ভিত। হাথরস গ্রামে আমার এক সহকর্মী করণলাল বাল্মিকীর মাধ্যমে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

জগদীশ বাল্মিকী নামে আরেকজন সম্পর্কে মনীষার ভাইঝি হয়। তিনিও বার্নপুর ইস্কো কারখানার কর্মী ছিলেন। মনীষার বাবার মামাতো ভাই জগদীশ বলেন, আমরা দুইভাই একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। আমাদের এখনো যোগযোগও রয়েছে। গত বছর মনীষার বাবা বার্নপুর কারখানায় কাজ করার সুবাদে তাঁর কিছু বকেয়া টাকা ছিল। সেটা পাওয়ার জন্য সে এসেছিল। তাঁর বাড়িতেই ছিল। সেই টাকা পেয়ে সে খুশী হয়েছিল। সেই টাকায় সে বড় মেয়ের বিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, মেয়ের উপরে হওয়া এমন ঘটনায় তাঁরা খুব মর্মাহত। ওদের ওপর ওখানে অত্যাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, কাজের সূত্রে এসে, এখম সেখানে তাঁরা বাড়ি তৈরি করেছেন। এই রাজ্যে রাজনীতি হয় কিন্তু, উঁচু জাত কিংবা নীচু জাত নিয়ে রাজনীতি হয় না।

পশ্চিমবঙ্গ বাউরি সমাজ কল্যান সমিতির রাজ্য সভাপতি রাজবংশী বাউরি বলেন, মনীষার সঙ্গে এই শহরের রক্তের সম্পর্ক। তাই আমরা বাল্মিকী, হরিজন, হাঁড়ি সমস্ত জাতি একত্রিত হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছি। প্রশাসনের কাছে আর্জি দোষীদের কঠিনতম শাস্তি দিতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।