সদ্যোজাতের মৃত্যুতে রায়গঞ্জ মেডিকেলে উত্তেজনা

678

রায়গঞ্জ: সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মৃতার আত্মীয় পরিজনেরা তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গাইনি বিভাগে। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।সোমবার ভোররাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাসপাতাল ক্যাম্পাস। অভিযোগ, গত শনিবার রাতে সন্তান প্রসব করতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কালিয়াগঞ্জ থানার শ্রী কলোনির বাসিন্দা মধুমিতা ঘোষ।

গতকাল গভীর রাতে অপারেশন থিয়েটারে সিজার করতে নিয়ে যান কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক দীপঙ্কর সরকার। সিজার না করে নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় সদ্যজাত পুত্র সন্তানের। ঘণ্টা দুয়েক পর বাড়ির লোকজনকে জানানো হয় নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে রোগীর আত্মীয়রা।

- Advertisement -

হেমতাবাদ থানার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা নিরুফা খাতুন করণদিঘি থানার সাধনপুরের বাসিন্দা প্রতিমা সিংহ একই অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন। পরপর তিন জনেরই সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের মৃত্যু হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সদ্যোজাত মৃত পুত্রসন্তানদের পরিবার-পরিজনেরা। হাসপাতাল ক্যাম্পাস ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রায়গঞ্জ থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তার দাবি, চিকিৎসার কোনও গাফিলতি হয়নি। মৃতের পরিবারের অভিযোগ ঠিক নয়। মৃত সদ্যজাত শিশুর বাবা বিশ্বজিৎ ঘোষের অভিযোগ গতকাল গভীর রাতে একজন মহিলা ও একজন পুরুষ গাইনি চিকিৎসক অপারেশন থিয়েটারে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা বারবার বলেছি সিজার করতে। কিন্তু তা না করে নরমাল ডেলিভারি করতে গিয়ে মৃত্যু হয় আমার সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের।‘

একই অভিযোগ করেছেন হেমতাবাদের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা রাকিব আলি, করণদীঘির বাসিন্দা তরণি সিংহ। তাদের সদ্যোজাত পুত্র সন্তানের মৃত্যু হলেও প্রথমে জানানো হয়নি। চিকিৎসকরা বেরিয়ে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মী মারফত জানতে পারি আমাদের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। আমরা তারই প্রতিবাদ করেছিলাম। উলটে হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী  নার্স ও নিরাপত্তারক্ষীরা আমাদের উপর চড়াও হয়েছে। আমরা মেডিকেল কলেজে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। প্রসূতিদের ছুটি হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। অভিযোগ গাইনি চিকিৎসক দীপঙ্কর সরকার ও নিতু কুমারীর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত শিশুর পরিবারের তরফে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।