একশো দিনের কাজ প্রকল্পে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

186

মানিকগঞ্জ, ২৯ ডিসেম্বরঃ একশো দিনের কাজ প্রকল্প চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের একাংশের বাধা দেওয়ায় ব্যহত হচ্ছে সরকারি প্রকল্প রূপায়ণের কাজ। এই অভিযোগ এনে কোদাল, ঝুড়ি নিয়ে পঞ্চায়েত দপ্তর ঘেরাও করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখালেন। মঙ্গলবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মানিকগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।বিজেপি কর্মীদের দৌরাত্ম্যে, নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে কর্মীরা। এলাকায় সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য শ্রমিকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিমল দাসের আশ্বাস পেয়ে, শ্রমিকরা বিক্ষোভ তুলে নেন।

গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৬৭ নম্বর বুথের মানিকগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে চাষের জমির আলবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য এলাকার অধিকাংশ মহিলা শ্রমিক সহ মোট ৪৬ জন শ্রমিককে নিযুক্ত করা হয়েছিল। গত ২৩ তারিখ ১৪ দিনের এই কাজ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিক আলোমতি রায়, বাসন্তি হাজরা, ভুপাল রায়, সুষমা রায়, দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একটি দল কাজের জায়গায় গিয়ে উৎপাত শুরু করে দেয়।এমনকি শ্রমিকদের বিল আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

এমনকি মহিলা শ্রমিকদের নানাভাবে উত্যক্ত করা হচ্ছে। সকল শ্রমিকদের হাজিরা বিষয়ে অহেতুক ঝামেলা বাঁধিয়ে দেয়। শ্রমিক নিরঞ্জন রায়, ভুপাল রায়, মহিবালা অধিকারি বলেন, কিষাণ মোর্চার সদর দক্ষিণ মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক পিনাকি রায় প্রধানের নেতৃত্বে দেবদাস রায়, মহিম অধিকারি, মানব রায়, গৌরাঙ্গ রায় সহ পাঁচ-ছয়জনের একটি দল রোজ দিন কাজের জায়গায় এসে ঝামেলা করছে বলে অভিযোগ। সেই কারণে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের কাজ।

বিজেপি কিষাণ মোর্চার সদর দক্ষিণ মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক পিনাকি রায় প্রধান বলেন, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে। তৃণমূল পরিচালিত ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১০০ দিনের কাজে ব্যপক দুর্নীতি হচ্ছে।ইতিমধ্যেই, বিষয়েটি নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সরেজমিনে কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে, মাস্টাররোল দেখতে চাওয়ার জন্য শাসকদের নেতৃত্বরা অসন্তুষ্ট হয়ে এদিনের সমস্যা তৈরি করেছে। ওই কাজের সুপারভাইজার ব্রজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ওঁনারা মাস্টাররোল দেখাতে চায়নি। এই কাজের জন্য মোট ৪৬ জন নথিভুক্ত শ্রমিক আছেন। এদিন বিশেষ কারণে মাত্র ৩ জন শ্রমিক অনুপস্থিত ছিলেন
পঞ্চায়েত প্রধান বিমল দাস ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।