একাধিক দাবিতে বিক্ষোভে সামিল আশা কর্মীরা

788

ফাঁসিদেওয়া, ২২ জুনঃ ইনসেন্টিভ কেটে নেওয়া এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে প্রয়োজনীয় পিপিই কিট না দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হল। সোমবার ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাসকে বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি জমা করা হয়েছে। সংগঠনের দার্জিলিং জেলা সহসভাপতি জয় লোধের নেতৃত্বে সমস্ত কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযোগ, আশা কর্মীদের মাসিক প্যাকেজ থেকে কর্মী থেকে ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার পর্যন্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। মাসিক সভার টাকা থেকে আশা কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের মতন কাজ করানো হচ্ছে। কিন্তু, টাকা কেটে নিয়ে আশা কর্মীদের আর্থিক প্যাকেজ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কর্মীদের আরও অভিযোগ, ভিন রাজ্য ফেরত মানুষদের পরীক্ষা করতে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হচ্ছে। আক্রান্তদের ওপর নজরদারি চালাতে হচ্ছে। কিন্তু, কোনও রকম নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে না। পিপিই কিট না পেয়ে কার্যত অস্ত্র ছাড়াই করোনা যুদ্ধে আশা কর্মীদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এদিন সকল বিষয় নিয়ে ওই সংগঠন তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল। তাঁদের দাবি অবিলম্বে, আশা কর্মীদের পিপিই কিট প্রদান করতে হবে। একইসঙ্গে প্যাকেজের পুরো বেতন দিতে হবে। আশা কর্মীদের ফাঁসিদেওয়া ব্লক ইনচার্জ মীরা বিশ্বাস রায় জানিয়েছেন, প্রথম অবস্থায় ১ বার তাঁদের মাস্ক, গ্লাভস, ক্যাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এরপর থেকে সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। এদিকে, স্বাস্থ্য কর্মীদের সমপরিমাণ কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও, তাঁদের স্বাস্থ্য কর্মীর স্বীকৃতি না দিয়ে ভলেন্টিয়ার হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, তাঁদের প্যাকেজের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে অজুহাত দেখিয়ে কেটে নেওয়া টাকা ফেরত দিতে হবে। সংগঠনের দার্জিলিং জেলা সহসভাপতি জয় লোধ জানান, অন্য রাজ্যের মত এরাজ্যেও আশা কর্মীদের বেতন ১০ হাজার টাকা করতে হবে। আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য কর্মীর স্বীকৃতি দিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন। অন্যথায় তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। ফাঁসিদেওয়ার স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, আশা কর্মীরা করোনা আক্রান্তদের সরাসরি সংস্পর্শে আসেন না। তাই পিপিই কিট তাঁদের কোনও কাজে আসবে না। পাশাপাশি, করোনা পরিস্থিতির জন্য আশা কর্মীদের সকল মিটিং স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কর্মীরা সেই নির্দেশের বাইরে গিয়ে মিটিং করেছেন। সেই কারণে সেই মিটিংয়ের টাকা প্যাকেজ থেকে বাদ পড়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।