তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বিক্ষোভে সামিল বিজেপি মহিলা মোর্চা

78

দূর্গাপুর, ১০ জানুয়ারিঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার দূর্গাপুরে তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার দফায় দফায় দূর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানা ঘেরাও করা হয়। শুক্রবার রাতে নিউটউনশিপ থানার এমএএমসি হাসপাতালের সামনের মাঠ থেকে এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করে দূর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। পরিবারের দাবি, তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নিউটাউনশীপ থানার নবীন পল্লীর বাসিন্দা রাকেশ বাউড়ির দিকে। শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউটাউনশিপ থানায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ অভিযুক্ত রাকেশ বাউরিকে গ্রেপ্তার করেছে।

কিন্তু, রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় নতুন করে উত্তেজনা। শুধু খুনের মামলা কেন? কেন অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ধর্ষণের ধারায় মামলা করা হয়নি, এই প্রশ্ন তুলে ফের সরব হন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতির ময়দানে নামে বিজেপি মহিলা মোর্চা। পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যরা রবিবার নিউটাউনশিপ থানার সামনে শুরু করেন বিক্ষোভ। নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের সহ সভানেত্রী মেহেফুজা খাতুন জেলা সভানেত্রী পাপিয়া পাল ও জেলা বিজেপির সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত রাকেশ বাউড়ির বাবা স্থানীয় তৃণমূল নেতা। সে জন্যই ধৃতের বিরুদ্ধে শুধু খুনের মামলা দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ চেপে যেতে চাইছে পুলিশ। দুপুরে বিজেপির মহিলা মোর্চার আন্দোলন উঠে যায়।

- Advertisement -

মৃতার বাড়িতে যান মহিলা মোর্চার সদস্যরা। তাঁরা কথা বলেন মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। কিন্তু, বিকেলের পরে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃতার পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা আবার নিউটাউনশিপ থানার সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুরু হয় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে বচসা। তাঁদের দাবি ছিল, পুলিশকে আগে ধর্ষণের সঙ্গে খুনের মামলা দায়ের করতে হবে। লঘু ধারায় মামলা করলে অভিযুক্ত সহজে ছাড়া পেয়ে যাবে। এটা তাঁরা হতে দেবেন না। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যে কমব্যাট ফোর্স নামানো হয় থানায়। অভিযুক্ত শাস্তি পাবেই, এই আশ্বাস দেওয়ার পর ওঠে থানা ঘেরাও কর্মসূচি।

তবে আন্দোলনকারীরা হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি লঘু ধারায় মামলা দায়ের করে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা হয় এবং অভিযুক্ত ছাড়া পেয়ে যায় তাহলে, তাঁরা আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। দূর্গাপুর পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবব্রত সাঁই পালটা অভিযোগ করেন, বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রীদের বলবো, আগে বিজেপির জেলা সভাপতির আত্মীয়র বিরুদ্ধে যে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তাঁর বিচারের দাবিতে ধর্ণায় বসুক তাঁরা। তারপর না হয় তাঁরা প্রচারের আলোতে এসে সস্তার রাজনীতি করবেন। গোটা ঘটনায় রবিবার সারাদিন টানটান উত্তেজনা ছিল দূর্গাপুরের নিউটউনশিপ থানা এলাকায়। এদিকে, এদিন ধৃত রাকেশ বাউরিকে দূর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতের জামিন নাকচ করে, ৭ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।