তৃণমূল কংগ্রেসে দিদি এবং ভাইপো ছাড়া আর কেউ থাকবে না, বললেন অগ্নিমিত্রা

297

আসানসোল ও দূর্গাপুর, ২৪ ডিসেম্বরঃ বাংলায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। এখানে গণতন্ত্র মানা হয় না। কিন্তু, আমাদের দলে গনতন্ত্র আছে। আসানসোল জেলা মহিলা মোর্চার ডাকে “আর নয় মহিলাদের অসুরক্ষা” কর্মসূচির প্রচারে এসে বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন দূর্গাপুরের সিটি সেন্টারে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে একই দাবিতে তিনি ধর্ণায় বসেন। সেখানে জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে ধর্ণা বিক্ষোভেও বসেন। সেখান থেকে তিনি বলেন, ২০২১ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ছে। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেসকে বাংলার মানুষ আর পছন্দ করেন না। আসনসোলে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আরও চমক আছে। তৃনমূল কংগ্রেসের থেকে আরও অনেকে আসবেন। ওই দলে দিদি এবং ভাইপো অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ থাকবেন না। এমনও দিন আসতে পারে, যেদিন ভাইপোকে নিয়ে দিদি আমাদের দলে চলে আসবেন।

আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির দলবদল প্রসঙ্গে মন্তব্য করায় বুধবারই বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে শোকজ করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। এদিন “আর নয় মহিলাদের অসুরক্ষা” কর্মসূচির প্রচারে ধর্ণা বিক্ষোভে সাংবাদিকদের জিতেন্দ্র তেওয়ারি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব তিনি দিতে চাননি। তিনি বলেন, এই ব্যপারে আমি আর কিছু বলব না। এটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দল আমার কাছে অভিভাবক। দলের মনে হয়েছে আমি এই সংক্রান্ত মন্তব্য করে ভুল করেছি। তাই আমাকে অভিভাবক হিসাবে শাসন করেছে দল। এই ব্যপারে আমার আর কোনও বক্তব্য নেই। জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিজেপি অগ্নিমিত্রা পালের পাশাপাশি রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুকেও শোকজ করা হয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে বলেছিলেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এদের প্রত্যেককে সমর্থন করেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু, দল তাঁদেরকে শোকজ করেনি বা তাঁদের জবাব চায়নি। এখানে দ্বিচারিতা করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবও অগ্নিমিত্রা পাল দেননি। তিনি এনিয়ে বলেন, আমি দলের সামান্য কার্যকর্তা মাত্র। মাত্র দু’বছর হল রাজনীতিতে এসেছি। দল আমাকে যা বলবে, আমি সেই পথেই চলব। আমাকে দল রাজ্যের মহিলাদের দেখার দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সেই পথেই চলছি। বর্তমানে বাংলায় মহিলাদের কোনও নিরাপত্তা নেই। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, রাজ্যের পুলিশকে আক্রমণ করে বলেন, এখানে মহিলাদের ওপর পুরুষ পুলিশ কর্মীরা আক্রমণ করে। দেখে মনে হবে, রাজ্য কোনও মহিলা পুলিশ নেই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মহিলা হওয়া সত্বেও, এখানে নারীদের কোনও সুরক্ষা কিংবা নিরাপত্তা নেই।

অগ্নিমিত্রা পাল বাংলায় বিজেপির হয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্দোলন করছেন। অথচ বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দলের ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের স্ত্রীকে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা বলেছেন। এর উত্তরে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এটা তাঁদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাতে আমি কী বলতে পারি। তবে, যে মহিলা ২৪ ঘণ্টা আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করলেন, তিনি সেই দলে চলে গেলেন। এটা কেমন আদর্শ? সেটাই ভাবছি। কী এমন হল যে, রাতারাতি এত পরিবর্তন? তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের কোনও কার্যকর্তা যদি দোষ করে, তাহলে সে শাস্তি পাবে। আমরা তাঁকে আড়াল করতে যাব না। এইসব তৃণমূল কংগ্রেস করে থাকে। আইন সবার জন্য।