কৃষিজমিতে প্রাচীর হাতিঘিসায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন

289

নকশালবাড়ি : হাতিঘিসাতে কৃষিজমিগুলি চিহ্নিত করে সেগুলিতে প্লটিং বা সীমানা প্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয কৃষকরা সমস্যায পড়েছেন। এক শ্রেণির দালালের দৌরাত্ম্যে কৃষকদের কাছ থেকে তাঁদের জমি হাতিযে সেখানে এই প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এলাকাটি কৃষিপ্রধান হিসাবে পরিচিত। এলাকার তিনফসলি জমিতে প্লটিং শুরু হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। সারা ভারত কৃষকসভার হাতিঘিসার অঞ্চল সভাপতি তুফান মল্লিক বলেন, ‘কৃষিজমিতে সীমানাপ্রাচীর দেওয়ায় কৃষকরা সমস্যায পড়েছেন। আমরা এ বিষযে প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা কোনো পদক্ষেপ না করলে নকশালবাড়ি থানাকে জানিয়ে আমরা এই প্রাচীরগুলি ভেঙে ফেলব।’ নকশালবাড়ি ব্লক ভমি ও ভমিসংস্কার আধিকারিক ডি এল ভুটিযা বলেন, ‘কৃষকরা নিজেদের জমি যে কাউকেই বিক্রি করতে পারেন। তারপর কেউ তাতে প্লটিং করলে আমাদের কিছু বলার থাকে না।’

সূত্রের খবর, নকশালবাড়ি ব্লকের অন্তর্গত হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের হুচাই মল্লিক মৌজায় প্রায় ৮০ বিঘা কৃষিজমিতে প্লটিং শুরু হয়েছে। অভিযোগ দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিযানার পাশাপাশি শিলিগুড়ির কিছু পুঁজিপতি কৃষকদের টাকার লোভ দেখিযে তাঁদের কৃষিজমি কিনে সেখানে প্লটিং শুরু করেছেন। এই কাজের জন্য এখানেই অফিস খোলা হয়েছে। প্রতিদিনই বহিরাগতরা এখানে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় কিছু জমি মাফিয়ার সহযোগিতায় কৃষিজমিগুলি একে একে পুঁজিপতিদের আওতায় চলে যাচ্ছে। সব কিছুই স্থানীয প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের হাতে রেখেই হচ্ছে। পাশাপাশি, কৃষিজমিতে সীমানাপ্রাচীর দেওযার জেরে এলাকার কৃষিকাজ মার খাচ্ছে। স্থানীয কৃষক কিরণ রায বলেন, ‘কৃষিজমির চারদিকে কংক্রিটের গার্ডওয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। এমনকি, কৃষিনালাও ছাড়া হচ্ছে না। এর ফলে কৃষিনালাগুলির জল চলাচল বন্ধ হযে গিয়েছে। নিজের জমিতে মাটি কেটে জল আনাও সম্ভব হচ্ছে না।’ কৃষক রামচন্দ্র শর্মা বলেন, ‘কৃষিজমিতে পাকা দেয়াল তৈরি হওয়ায় চাষাবাদের জন্য ট্রাক্টর বা লাঙল আনা যাচ্ছে না। এভাবে কৃষিজমিগুলিতে প্লটিং হতে থাকলে এলাকার প্রায ১০ হাজার কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে পথে বসবেন।’ দেবকুমার সুব্বা, গোবিন্দ মল্লিক, দিল্লিপ্রসাদ শর্মার মতো কৃষকরাও একই কথা জানিয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয পঞ্চায়েত সদস্য বাসন্তী দেবনাথ বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্দেশিকা অনুসারে যে সব কৃষিজমি কেবলমাত্র কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার করা হবে সেগুলিতে নামজারি বাবদ মিউটেশন ফি, খাজনা দিতে হবে না। এই নির্দেশিকাকে কাজে লাগিযে জমি মাফিযারা কৃষিকাজের জন্য  ব্যবহৃত জমি কৃষিকাজের জন্য নিয়ে সেগুলিতে প্লটিং শুরু করেছেন। হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জৈষ্ঠ্যমোহন রায় বলেন, ‘কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত জমি বিক্রি হলে সেখানে কৃষিকাজই করতে হবে। সেখানে কোনোমতেই সীমানাপ্রাচীর দেওয়া চলবে না।’ সমস্যা মেটাতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তাঁরা দাবি জানিয়েছেন।

 

ছবি- হুচাই মল্লিক মৌজায় কৃষিজমি ঘেরা হচ্ছে এভাবে।

তথ্য ও ছবি- মহম্মদ হাসিম