অগাস্টা দুর্নীতিতে নাম জড়াল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলের

203

নয়াদিল্লি: অগাস্টা ওয়েস্টল্য়ান্ড চপার কেলেঙ্কারিতে এবার নাম জড়াল মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের ছেলে বকুল নাথের। নাম জড়িয়েছে সলমন খুরসিদ, আহমেদ প্যাটেলেরও। এই দুর্নীতিতে প্রধান অভিযুক্ত রাজীব সাক্সেনার জবানবন্দিতে তাঁদের নাম রয়েছে। ১ হাজারেরও বেশি ওই জবানবন্দিতে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের প্রতিলিপি, ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলির নথি এবং মূল অভিযুক্তদের মধ্যে ইমেলে কথোপকথনের নথিও রয়েছে।

বর্তমানে জামিনে মুক্ত রাজীব সাক্সেনাকে গতবছর জানুযারি মাসে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁকে জেরাও করা হয়। তদন্তকারীদের জেরায় সে যে সমস্ত তথ্য জানিয়েছে সেসবের ভিত্তিতে তাঁকে এবার রাজসাক্ষী করতে চায় ইডি। এব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদনও জানিয়েছে ইডি। তারা জানতে পেরেছে, হাওয়ালার মাধ্যমে অর্থের লেনদেন হয়েছিল। একের পর এক ভুঁইফোঁড় সংস্থাও তৈরি করা হয়েছিল। ইডির আধিকারিকদের জেরায় সাক্সেনা জানিয়েছিল, তার সঙ্গে মূলত দুজন অভিযুক্তের আর্থিক লেনদেন হত। তাঁদের মধ্যে একজন প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে জড়িত সুশেন মোহন গুপ্তা এবং অপরজন কমল নাথের ভাগ্নে রাতুল পুরী।

- Advertisement -

সাক্সেনার অভিযোগ, ক্ষমতার অলিন্দে নিজেদের প্রভাব কতটা সেটা বোঝানোর জন্য বারবার একাধিক রাজনৈতিক নেতার নাম করত বাকি অভিযুক্তরা। তাঁরা প্রায়ই সলমন খুরসিদ এবং কমল নাথের কথা বলতেন। সাক্সেনা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রিস্টিন রিভার ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি সংস্থার নিয়মিত যোগযোগ ছিল। ওই সংস্থার মাধ্যমেই অর্থের লেনদেন হত। সংস্থাটি বকুল নাথের পরিচালনাধীন। ছেলের নাম জড়ানোর পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কমল নাথ।

তিনি অবশ্য বলেন, রাতুল পুরীর সংস্থা এবং তাঁর লেনদেনের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। বকুল নাথ দুবাইয়ের একজন এনআরআই ব্যবসায়ী। প্রিস্টিন রিভারের মালিক হিসেবে তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু আমাকে বকুল বলেছে, ওই সংস্থার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। এব্যাপারে কোনও তথ্যপ্রমাণও নেই। ভুঁইফোঁড় সংস্থা যে কেউই খুলতে পারেন।

প্রায় একই দাবি করেছেন সলমন খুরসিদও। তিনি বলেন, অগাস্টা দুর্নীতিতে আমার নাম জড়িয়েছে শুনে আমি খানিকটা হতভম্ব। সুশেন মোহন গুপ্তার বাবা দেবমোহন গুপ্তা আমার ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। আমার শুভাকাঙ্ক্ষীও। রাতুল পুরী বা রাজীব সাক্সেনার মতো মানুষদের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক ছিল না। অগাস্টা চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরই চুক্তিটি বাতিল করে দিয়েছিল ইউপিএ সরকার। কিন্তু তাতে দুর্নীতির অভিযোগ পিছু ছাড়েনি।