পাখির চোখ বিধানসভা নির্বাচন, চাঁচলে সভা করল মিম   

10228

সামসী: ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটকে সামনে রেখে এগোচ্ছে সমস্ত রাজনৈতিক দল।সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে আসাদ উদ্দীন ওয়েইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এমআইএম)। বিহারে ভালো ফলের পর এবার ওয়েইসির দলের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। সেভাবেই এগোচ্ছে এমআইএম অর্থাৎ মিম। বিহারে সংখ্যালঘু ভোট মিমে পড়ায় সুবিধা হয়েছে বিজেপির, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ওয়েইসি ডিসেম্বরের শেষ দিকে মালদায় আসছেন। সেই কর্মসূচিকে সফল করতে সোমবার চাঁচল-২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খানপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হল। মিমের জেলা নেতা মতিউর রহমানের ডাকে এদিনের হয়েছে। মতিউর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিম নেতা তথা আইনজীবী হুমায়ুন মিয়াঁ, রাজ্য যুব নেতা হবিবুর রহমান, জেলা নেতা মণিরুল ইসলাম, আমির হোসেন, বদরুল ইসলাম আরও অনেকে।

- Advertisement -

জেলা আহ্বায়ক মতিউর রহমান বলেন, ‘বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল। তারা হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দিদি-মোদি তলে তলে সেটিং আছে। মালদার মুসলিম অধ্যুষিত প্রায় ৬টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা ভাবনা রয়েছে।’ যুব নেতা আমির হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল ও বিজেপি একটি কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ।‘

তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই মুহুর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও বিকল্প নেই। মিম আগে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন জিতে দেখাক। তারপর না হয় বিধানসভা দখলের কথা ভাববে।‘

বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, ‘আসলে মিম সাম্প্রদায়িক দল। তাই ওরা শুধু মুসলিমদের কথা ভাবছে। বিজেপি ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-এর কথা প্রচার করে।‘

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে তৃণমূলের কাছে সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে এমআইএম। কারণ মুসলিম ভোট ওয়েইসির দিকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বাংলার মুসলিম ভোট ব্যাংকে ওয়েইসি ভাগ বসালে বিজেপির যে সুবিধা হবে, সেটা বলাইবাহুল্য। বিহার নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, বাংলা ঘেঁষা বিহারের বেশকিছু আসনে ওয়েইসির দল জয়ী হয়েছে। এমআইএম থাবা বসিয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি-র মুসলিম ভোট ব্যাংকে।

পশ্চিমবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর লাগোয়া বিহারের কাটিহার, কিশনগঞ্জ, পূর্ণিয়া জেলার ৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এলাকাগুলি মুসলিম অধ্যুষিত। সেখানকার মানুষের ভোট স্বাভাবিকভাবেই এমআইএম-এর দিকে পড়েছে। আর এটাই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।