মুসলিম ভোট পেতে মিমের তাস মেরুকরণ, রাজ্যে আসছেন আসাদউদ্দিন

124

হায়দরাবাদ ও কলকাতা :  পশ্চিমবঙ্গের ভোট ময়দানে মুসলিম ভোটব্যাংক বরাবরই শাসক শিবিরের কাছে একটি ফ্যাক্টর। অতীতে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট ও পরে তৃণমূল এই ভোটব্যাংকের সাহায্যেই বাংলায় রাজত্ব করেছে। কিন্তু বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটব্যাংকের দখল ঘিরে চূড়ান্ত ধোঁয়াশায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার কারণ, আসাউদ্দিন ওয়েসির এআইমিম এবার ভোটে লড়াইয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে জোড়াফুল শিবির। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির আইএসএফকে সঙ্গে নিয়ে মুসলিম ভোটব্যাংক কবজা করার স্বপ্ন দেখলেও মিম-কাঁটা তাদেরও ঘোরতর চিন্তায় ফেলেছে। কট্টর হিন্দুত্ব এবং দেশপ্রেমকে সামনে রেখে বিজেপি যেভাবে রাজ্যে শক্তি সঞ্চয় করছে, তাতে আসন্ন বিধানসভা ভোটে মেরুকরণ অনিবার্য বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটব্যাংকে থাবা বসাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে হায়দরাবাদের দলটি।

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে আসছেন দলের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। ওইদিন কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা মেটিয়াবুরুজে একটি জনসভা করার কথা তাঁর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই মেরুকরণ প্রবল হয়ে উঠছে বাংলায়। উন্নয়ন ও সুশাসনের সঙ্গে হিন্দুত্ব প্রচারের যে কট্টর মিশ্রণ চিরকাল গেরুয়া শিবির দেশের বিভিন্ন রাজ্যে করে এসেছে, সেই ফর্মুলা ক্রমশ বঙ্গ রাজনীতিতে দাগ কাটতে শুরু করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিহারের মতো বাংলাতেও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এআইমিম। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ দেওবন্দি, ৩০ শতাংশ বরেলভি এবং এবং ২৫ শতাংশ আহল-ই-হাদিথ গোষ্ঠীভুক্ত। আসাদউদ্দিনের দল বরেলভি, আহল-ই-হাদিথের পুরোটার পাশাপাশি দেওবন্দিদের সিংহভাগ সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাজ্যে মিমের যেটুকু সমর্থনভিত্তি রয়েছে সেটা ওই বরেলভি এবং আহল-ই-হাদিথ গোষ্ঠীর মধ্যেই রয়েছে। মুসলিমদের এই দুটি গোষ্ঠীর ভোট উত্তরবঙ্গ এবং বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলিতে অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যের মুসলিমদের মধ্যে এই প্রভাবশালী ভোটব্যাংককে নিজের দিকে টানতে আগামী ২৫ তারিখ বার্তা দিতে পারেন আসাদউদ্দিন। রাজ্যে মিমের নেতা জমিরুল হাসান বলেন, আমরা আব্বাস সিদ্দিকির দলের সঙ্গেও কথা বলেছি। কিন্তু ওঁরা এখন কোনওকিছু বলতে নারাজ। জোটের ভবিষ্যৎ যাই হোক না কেন, আমরা এবার যে ভোটে লড়ছি, সেটা স্পষ্ট। এর আগে ফুরফুরা শরিফে এসেছিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সেবার আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে থাকার কথাও বলেছিলেন তিনি। জমিরুলের মতে, আব্বাস সিদ্দিকির হাতে সারারাজ্যে মাত্র ২-৩ শতাংশ ভোট রয়েছে। আমরা বিহারে যে কৌশল কাজে লাগিয়েছিলাম, বাংলাতেও সেটাকেই কাজে লাগাব। আব্বাস সিদ্দিকি যতই বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধুন, আসাদউদ্দিন ওয়েসিকে কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না এবারের ভোটে। মিম নেতা জানিয়েছেন, আহল-ই-হাদিথ, দেওবন্দি এবং বরেলভি গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে বিহারে পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছেন তাঁরা। কাজেই পশ্চিমবঙ্গে এই ভোটব্যাংককে ঠিকমতো কাজে লাগালে তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস উভয় শিবিরই যে ধাক্কা খাবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞ মহলে।