মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া : ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির জন্য বরাদ্দ টাকা জমিজটে ফেরত গিয়েছে। এদিকে, আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই। জঞ্জালে ভরে যাচ্ছে চারিদিক। বাধ্য হয়ে কখনও স্থানীয় বাসিন্দা, কখনও আবার গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জঞ্জালের গাদায় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন। কিন্তু তাতে সামযিকভাবে জঞ্জালের স্তূপ কমলেও আদতে সমস্যাই বাড়ছে। জঞ্জাল পোড়া ধোঁয়ায় হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে বীরপাড়ার হাজার হাজার মানুষকে।

বীরপাড়ার দিনবাজার সহ রবীন্দ্রনগর, দেবীগড়, শরৎ চ্যাটার্জি কলোনি, সারদাপল্লি, কলেজপাড়া, সুভাষপল্লি, শান্তিনগর কলোনি, ক্ষুদিরামপল্লি, নতুন বাসস্ট্যান্ড সহ প্রতিটি মহল্লায় আবর্জনা অন্যতম প্রধান সমস্যা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বীরপাড়ায় আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ফলে বাড়িঘরের আশেপাশে এবং নিকাশিনালায় জমছে আবর্জনার স্তূপ। কখনো-কখনো বীরপাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে গাড়িতে তুলে আবর্জনার স্তূপ ফেলা হয় বীরপাড়া সংলগ্ন ৩১সি জাতীয় সড়ক তথা নির্মীয়মাণ এশিয়ান হাইওয়ের পাশে এবং বিরবিটি নদীর বুকে। তবে অনেক সময় আবর্জনার স্তূপে আগুন লাগিয়ে যে আবর্জনার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করা হয় তা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন বীরপাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মণ্ডল। কী নেই জঞ্জালের স্তূপে! ছেঁড়া কাপড়চোপড়, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, থার্মোকলের বাক্স তো রয়েছেই। তার ওপর রয়েছে যানবাহনের চাকার টায়ার-টিউবের মতো জিনিসও।

বীরপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় এসব পোড়ানো হচ্ছে। জঞ্জাল পোড়া ধোঁয়া বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এতে বাযু দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ। বীরপাড়ার সুভাষপল্লি এলাকার গৃহবধূ আশা গুহনিয়োগী বলেন, এমনিতেই বীরপাড়ার বাতাসে দিনরাত ভেসে বেড়ায় ডলোমাইটের গুঁড়ো। যার কারণে বাসিন্দারা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে ভুগছেন। তার ওপর জঞ্জালের স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য বীরপাড়ার বাতাসে সারাক্ষণই পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। অথচ, আজও বীরপাড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি হল না। এটাই আক্ষেপ। এর আগে বীরপাড়ার অদূরে একটি ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তৈরির জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছিল। প্রথম ধাপে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর কুড়ি লক্ষ টাকা মঞ্জুর করে বলে মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ শুরু করার আগে চিহ্নিত জমিটি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। একসময় ফেরত যায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য বরাদ্দ টাকা। স্বাভাবিকভাবেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড জোটেনি বীরপাড়াবাসীর বরাতে।

এ বিষয়ে মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, জমি নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। তবে সেই সমস্যা মিটে গিয়েছে। বীরপাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা তৈরি করে আলিপুরদুয়ার জেলাপরিষদে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বীরপাড়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রমেশ মণ্ডল বলেন, যাবতীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর সাড়াও মিলেছে।বীরপাড়ায় জঞ্জাল ফেলার জন্য শীঘ্রই ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করা হবে। জঞ্জাল ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মাঝেমাঝে জঞ্জালের স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি ক্ষতিকর হলেও আমরা নিরুপায়।