ধান নিয়ে গবেষণা করতে আমেরিকা যাচ্ছেন বর্ধমানের আকাশ

217

বর্ধমান: রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান। এই জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল ধান। আর সেই ধান নিয়েই ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ডাক পেলেন শস্যগোলার যুবক আকাশ দত্ত। সমগ্র এশিয়া মহাদেশ থেকে শুধুমাত্র দুই কৃতি আকাশ ও বাংলাদেশের একজন নাগরিক এই সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ব উষ্ণায়ন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আকাশ উন্নতমানের উচ্চ ফলনশীল নতুন কি ধান আবিষ্কার করে সেদিকেই এখন তাকিয়ে শস্য গোলার কৃষক মহল।

বর্ধমান শহরের ৪ নম্বর ইছলাবাদে বাড়ি আকাশ দত্তর। তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তরফে তাঁকে একটি প্রোজেক্ট জমা দিতে বলা হয়। সেই প্রোজেক্টের ভিত্তিতেই তিনি ১০০ শতাংশ স্কলারশিপে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ইলিওনিস আবার্না স্যাম্পেইনে গবেষণার ডাক পেয়েছেন। আকাশ আরও জানান, বর্তমান গ্লোবাল ওয়ার্মিং পরিস্থিতিতে বদলে যাওয়া আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে আরও উন্নতমানের উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদন করা যায় সেই লক্ষ্যেই তিনি গবেষণা চালাবেন। ধান গাছের জেনেটিক ম্যানুপুলেশনই হল তাঁর গবেষণার বিষয়। মূলত পশ্চিমবঙ্গে উৎপাদিত হয় এমন ধান নিয়েই তিনি গবেষণা করতে আগ্রহী। বিভিন্ন সময়ে খরা এবং অতিবৃষ্টির জন্য এই রাজ্যে প্রচুর ধান নষ্ট হয়। তার জন্যে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় রাজ্যের কৃষকদের। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যাতে চাষের কোনও অসুবিধা না হয়, চাষিরা যাতে ঠিকমতো ধান উৎপাদন করতে পারেন, সেই দিকটিও তিনি গবেষণার সময়ে মাথায় রাখবেন বলে জানান। একইসঙ্গে আকাশ জানান, গবেষণা শেষ করে তিনি নিজের দেশের মাটিতে সেই গবেষণার ফল প্রয়োগ করতে চান।

- Advertisement -

ছেলে চাষিদের স্বার্থে ধান নিয়ে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করবে জেনে খুশি বাবা তারাপদ দত্ত। তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন কৃষি দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও একজন চাষি পরিবারের সদস্য। পরিবারের চাষের জমি এখনও তিনি নিজেই চাষবাদ করেন। কৃষক পরিবারের ছেলে হয়ে আকাশ চাষিদের স্বার্থে ধান নিয়ে গবেষণা করবেন জেনে তিনি ভীষণ খুশি বলে জানিয়েছেন তারাপদবাবু। আকাশ আন্তর্জাতিক স্তরে ধান নিয়ে গবেষণা করতে যাচ্ছেন জেনে খুশি পরিবারের অন্য সদস্যরাও। আকাশ গবেষণায় সফল হয়ে ধান চাষে নতুন কিছু দিশা দেখাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার।