আকাশের মুখে গৌতম বুদ্ধের কথা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : শ্রাবস্তী তাঁর গ্রাম থেকে মাত্র ২০ মিনিটের পথ। সম্ভবত সেইকারণেই মাথা বরফের মতো ঠান্ডা রেখে মাঠে নিজের সেরাটা মেলে ধরতে পারেন বছর কুড়ির ছেলেটি। সদ্য শেষ হওয়া আইএসএলের অন্যতম সেরা আবিষ্কার আকাশ মিশ্রর জীবনে গৌতম বুদ্ধর প্রভাব অবশ্যম্ভাবীই ছিল। জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি যা নিজেই জানালেন।

অনূর্ধ-১৯ জাতীয় দল এবং ইন্ডিয়ান অ্যারোজ থেকে সরাসরি এবার হায়দরাবাদ এফসিতে যোগদান এই লেফট ব্যাকের। এবং প্রথম মরশুমেই সিনিয়র জাতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাকের নজর কেড়ে নেওয়া, বড় কম কথা নয়। মজার কথা হল, দুবাইতে না থেকে তিনি এখন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের হয়ে স্পিন বোলিংটাও করতে পারতেন হয়ত। কারণ এদেশের আর পাঁচটা বাচ্চার মতো তিনিও ছোটবেলায় ক্রিকেটটাই খেলতেন। উত্তরপ্রদেশের জেলাভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে যথেষ্ট পরিচিতিও পেয়ে যান সেসময়।

- Advertisement -

আকাশ নিজেই জানালেন সেসব কথা, আমি ছোটোবেলায় ক্রিকেটই খেলতাম। স্পিন বল করতাম সেসময়। যথেষ্ট নামডাক হয়ে গিয়েছিল আশপাশের অঞ্চল জুড়ে। কিন্তু ক্রিকেট ক্যাম্পে অনুশীলন করার সময়ে এত বেশি বাচ্চা থাকত যে বিরক্তি লেগে যেত সুযোগ পাওয়ার জন্য বসে থাকতে। শেষপর্যন্ত আমার এক তুতো দাদা আমাকে ফুটবলের একটা ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তখন আমার ১১ বছর বয়স মাত্র। অথচ অনুভব করলাম বলে কিক মারতে গিয়ে একটা আলাদা উত্তেজনা অনুভব করছি। সেই থেকেই ফুটবলে।

১১ বছরে শুরু করে মাত্র ১৯-এই ফ্রান্স, স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সফর। এর জন্য ইন্ডিয়ান অ্যারোজের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন আকাশ। বললেন, আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে অনূর্ধ-১৯ দলের হয়ে ফ্রান্স, স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সফর করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ওরা সত্যিই অনেক এগিয়ে। সেসময় আমি আই লিগে খেলতাম। গিয়ে অনুভব করলাম ওখানকার ছোটরাই আই লিগের সব দলগুলির থেকে অনেক শক্তিশালী। শারীরিক এবং বলের উপর দখলের ব্যাপারেও। অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী।

আকাশের কথায়, আমাদের সেটা থাকলেও দ্বিধা থাকত, ওদের কিন্তু সেটা ছিল না। এসব শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম ইন্ডিয়ান অ্যারোজে ছিলাম বলেই। অ্যারোজে না খেললে হায়দরাবাদ এফসিই বলুন কী সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া, কোনওটাই আমার জীবনে ঘটত না। সেসময়ই একবার তাঁদের অনুশীলনে ইগর স্টিমাক এসেছিলেন বলে জানান আকাশ। সেদিনের কথা বলতে গিয়ে হেসে ফেলেন তিনি, উনি যেদিন এলেন আমাদের ওখানে, সেদিনই আমরা সবথেকে বেশি ভুল করছিলাম।

জাতীয় শিবির সম্পর্কে বলতে গিয়ে আকাশের অনুভতিকে যথেষ্ট ভাবনাচিন্তার ফসল বলে মনে হয়, দেখুন সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মানে সারা পৃথিবীতেই একটা বিশাল ব্যাপার। আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। তার মধ্যে থেকে শিবিরে সেরাদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। আপনাকে প্রথম ২৩ এবং পরে এগারোয় ঢুকতে হবে। মানে কী প্রচন্ড পরিশ্রম দরকার ভেবে দেখুন। তবে জাতীয় শিবিরে ডাক পাওয়া নিয়ে আমি কিন্তু বাড়তি কিছু ভাবিনি। আমি নিজের সেরাটা দিতে পারি। এসব নিয়ে ভাবতে গেলে ক্লাবের হয়ে আমার খেলাটা নষ্ট হত।

এতকিছু ভাবার জন্য সম্ভবত তাঁর জীবনে গৌতম বুদ্ধের প্রভাবই কাজ করছে। নিজেই জানালেন, আমি শ্রাবস্তীতে যখনই যাই, তখনই নিজের মধ্যে একটা নতুন কিছু আবিষ্কার করি। গৌতম বুদ্ধ শ্রাবস্তীতে তাঁর জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ওঁর শিক্ষা ওখানে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। একটা শান্তি আছে। বলতে পারেন, সেসবের দ্বারাই আমি প্রভাবিত। আর সেই শিক্ষাকেই এখন ফুটবল মাঠে কাজে লাগাতে চাইছেন আকাশ।