পর্যটন জেলায় ঠুঁটো জগন্নাথ প্রশাসন

190

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালেও তা মেটাতে সরকারেরই কোনও উদ্যোগ নেই। গত কয়েকদিন ধরে নয়া সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে পর্যটকদের বারবার হয়রান হতে হয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটাতে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। আলিপুরদুয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের পর্যটন জেলা কয়েক বছর আগে ডুয়ার্সকন্যায় পর্যটনের হেল্পডেস্ক চালু করা হয়। সেটি বর্তমানে হেল্পলেস অবস্থায় রয়েছে। পর্যটন নিয়ে সরকারের নয়া নির্দেশিকা সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক (ওসি, টুরিজম) থেকে স্বাস্থ্য আধিকারিক বা জেলা শাসক, কেউই সংবাদমাধ্যমের ফোন ধরেন না। পর্যটন সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকার বিষয়ে পর্যটক থেকে জেলার টুর অপারেটরদের অন্ধকারে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটন ব্যবসায়ীরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। সবমিলিয়ে পর্যটক, পর্যটন ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্ট মহলে হতাশা ছড়িয়েছে।

আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, আলিপুরদুয়ার পর্যটনের জেলা। কয়েক বছর আগে ডুয়ার্সকন্যায় একটি টুরিজম হেল্পডেস্ক চালু করা হলেও সেটি থেকে পর্যটকরা কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অফ টুরিজম আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারি নয়া নির্দেশিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও সদুত্তর মেলেনি। আলিপুরদুয়ারে পর্যটনকে তুলে ধরতে মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও বরাবরই তৃণমূলস্তরে একটি ঘাটতি থেকে গিয়েছে। ডুয়ার্সকন্যার হেল্পডেস্কটি যাতে সবসময় চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বাইরের পর্যটকরা যাতে সেখানে ফোন করে নয়া নির্দেশিকার ভ্রমণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর জেলা শাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডুয়ার্সকন্যায় টুরিজম হেল্পডেস্ক রয়েছে। সেখানে শীঘ্রই হেল্পলাইন পরিষেবা চালুর বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

- Advertisement -

পর্যটন নিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নির্দেশিকা কিছুদিন হল জেলায় এসেছে। কিন্তু আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন এই নির্দেশিকার বিষয়ে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকেও কিছু জানায়নি। এর জেরে পর্যটকদের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও চরম সমস্যায় পড়েন। অন্যান্য জেলা প্রশাসন এবিষয়ে হোটেল, লজ, টুর অপারেটরদের জানিয়ে এলেও আলিপুরদুয়ারে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা শুক্রবার পর্যন্ত অন্ধকারেই ছিলেন। শনিবার অবশ্য ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসনিকভাবে বৈঠক করে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তাঁদের অবগত করা হয়। তারপর থেকেই হোটেল মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। ভ্যাকসিনের ডাবল ডোজ, আরটি-পিসিআর রিপোর্ট না থাকায় হোটেল মালিকরা পর্যটকদের অনেককেই ফিরিয়ে দেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তাঁরা জানান, জেলা প্রশাসন নয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের হোটেল, লজ, হোমস্টে-তে থাকার বিষয়ে যে নির্দেশিকার কথা জানিয়েছে, তাতে আসন্ন পুজোর মরশুমে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আলিপুরদুয়ারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সমস্যায় পড়বেন।

আলিপুরদুয়ার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল পাল বলেন, টিকার ডাবল ডোজ না থাকায় পর্যটকদের অনেককে ফেরাতে হয়েছে। অনেকের একটি ডোজ হয়েছে। তা সত্ত্বেও নয়া সরকারি নিয়মে তাঁদের রাখা যাচ্ছে না। বাইরে থেকে জরুরি নানা কাজে এসে আলিপুরদুয়ারে রাত কাটাতে অনেকে সমস্যায় পড়ছেন। সমস্যা মেটাতে হোটেল ব্যবসায়ীরা মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসবেন। টুর অপারেটরদের সংগঠন আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট টুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তথা চিলাপাতা ইকো টুরিজম সোসাইটির কনভেনার অভীক গুপ্ত বলেন, পর্যটন নিয়ে বিধিনিষেধ জারি হলেও তার কোনও লিখিত নির্দেশিকা মিলছে না। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার জন্য জয়ন্তী সহ ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। জয়ন্তীতে বাসিন্দারা গ্রামে ঢুকতে গিয়ে প্রশাসনের হয়রানির মুখে পড়ছেন।