আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত নিকাশি নালা সাফাই হয় না। ফলে বেশিরভাগ  নালায় জল ও নোংরা জমে সেখানে মশার আঁতুর তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন জমা জল থেকে দূষণ, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে, শহরের রবীন্দ্রনগর, কলেজপাড়া, কোর্ট চত্বর এবং খোদ জেলাশাসকের বাংলোর চার পাশের নিকাশি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। ডেঙ্গু নিয়ে যখন গোটা আলিপুরদুয়ারে স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সচেতনতা প্রচার চলছে তখন শহরে নিকাশির বেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, ‘পুরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত নিকাশি নালা পরিষ্কার করা হয়। যেগুলি করা হয়নি তা দ্রুত সাফ করা হবে।’
আলিপুরদুয়ার পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছরের ওপরে আলিপুরদুয়ার পুরসভায় প্রশাসক বসেছেন। তারপর থেকে পুরসভার ২০টি ওয়ার্ড অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ভোট না হওয়ায় ওয়ার্ড গুলিতে কাউন্সিলার নেই। তাই এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ দেখা থেকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। পুরসভায় প্রশাসক বসলেও তিনি পুরোপুরি সময় দিতে পারছেন না বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। প্রশাসকের কাছে সব সময় জানানোও সম্ভব হয় না বলে বাসিন্দাদের দাবি। তাই কোনো এলাকা একবার পরিষ্কার করা হলে ফের ওই এলাকা পরিষ্কার করতে কয়েক মাস লেগে যাচ্ছে। দিনদিন আলিপুরদুয়ার পুর এলাকায় এই সমস্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে পুরসভার ওয়ার্ডগুলিতে অপরিকল্পিত নালা, নর্দমা তৈরি হওয়ায় নিকাশি নিয়ে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রতাপ রায় বলেন, শহরের বেশিরভাগ নিকাশি নালা অপরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে। ফলে নালা দিয়ে ঠিকমতো জল যায় না। নালার মধ্যে জল জমে থাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে, পচা আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
কলেজপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার অনিন্দ ভৌমিক বলেন, ‘বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে নিকাশি নালায় জঞ্জাল জমে জল যেতে পারছে না। এলাকায় দূষন ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধে ওই এলাকাদিয়ে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। নালায় জমা জলে মশা ডিম পাড়ছে। পুরসভার উচিত সব এলাকাতেই গুরুত্ব দিয়ে নালা, নর্দমাগুলি নিয়মিত সাফাই করা।’
পুরসভার প্রশাসক কৃষ্ণাভ ঘোষ বলেন, ‘পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেই নালা, নর্দমা নিয়মিত সাফাই করা হয়। পাশাপাশি শহরের জঞ্জালও অপসারণ করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে।’

ছবি- আলিপুরদুয়ার ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনের নালায় জঞ্জাল জমে আছে।

তথ্য ও ছবি- ভাস্কর শর্মা।